পবিপ্রবি প্রতিনিধি:
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের
(পবিপ্রবি) অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম একজন স্বনামধন্য গবেষক ও শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষক। শিক্ষার্থীবান্ধব এই গবেষককে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি নির্ধারণী পদে প্রত্যাশা করেন। জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটি সহ বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া সম্পন্ন করে তিনি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যোগদান করার প্রস্তাব পেয়েও তিনি দেশের সেবার কথা চিন্তা করে এবং শিক্ষার্থীদের অনুরোধে সুযোগ গ্রহণ করেননি। ২০০ টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ তার আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এর পাশাপাশি অসংখ্য বিদেশী প্রকল্প তিনি তত্ত্বাবধায়ন করেছেন। দলীয়করনের কারণে তিনি বাংলাদেশে সঠিক মূল্যায়ন পান নি বলে অনেকের অভিযোগ। কর্মস্পৃহা ও দক্ষতায় তিনি অনন্য।
পবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির সর্বশেষ গবেষণা যাচাই বাছাই করে ড. সাইফুল প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। প্রচন্ড উদ্যমী এই মানুষটি সবসময় আড়ালে পড়ে থাকেন। কিন্তু এখন সময় এসেছে তাদের মতো অত্যন্ত মেধাবীদের হাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তুলে দেয়ার বলে শিক্ষার্থীরা মনে করেন। কারণ বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় করতে এমন মুষ্টিমেয় অধ্যাপকদের প্রয়োজন অন্যথায় মেধাবীরা দেশবিমুখী হলে দেশের জন্য ক্ষতির কারণ হবে বলে শিক্ষার্থীদের ধারণা। ব্যক্তি জীবনে অধ্যাপক ড. সাইফুল কোনো দূর্নীতি অনিয়মের সহচর বা দলীয় রাজনীতি বা লেজুড়বৃত্তির উর্ধ্বে। যার কারণে তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও হতে পারেননি।
বিশ্ববদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীর মতামত জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশে অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বাংলাদেশের সম্পদ। এই অসামান্য সম্পদের সঠিক মূল্যায়ন করা উচিত অন্যথায় দেশ পথ হারাবে। শিক্ষার্থীদের দাবি এমন অধ্যাপক ভিসি হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান বাড়বে। দলীয়করণ না করে যিনি যোগ্য তাকে দিয়ে পরিচালিত হোক বিশ্ববিদ্যালয়। ভিসি হওয়ার দৌড়ে সাদা, নীল, লালের ভিড়ে স্বনামধন্য গবেষকরা নিচে পড়ে আছে।
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলামের প্রায় ১২ হাজারের কাছাকাছি সাইটেশন। এতো বড় গবেষণা প্রোফাইল সত্যি প্রশংসনীয় এবং তিনি অত্যন্ত ভালো মানের একজন শিক্ষক।
অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলামকে তার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য যেকোনো চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে আমি প্রস্তুত। তবে সেটি হতে হবে দেশের স্বার্থে, ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হতে চাইলে বিদেশে সুযোগ ছিলো। তদবির কিংবা অসৎভাবে আমি কোনো পদ-পদবী পেতে আগ্রহী নই।
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি মনে করি শিক্ষার্থীদের বিজয় হয়েছে। শিক্ষকদের উচিত শিক্ষার্থীদের আস্থার জায়গা ফিরিয়ে আনতে কাজ করা। দেশ সংস্কারে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। তবে তাদের সেশনজটগুলো কাটাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টি করা এখন সময়ের দাবি বলে আমি মনে করি। কেননা অত্যন্ত মেধাবী এই শিক্ষার্থীরা হতাশ হয়ে বিদেশে চলে যাচ্ছে তাদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন করতে পারলে দেশ এগিয়ে যাবে। দুর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত থাকা উচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে।

0 coment rios: