বিদেশি শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে বাকৃবি অধ্যাপক সাময়িক বরখাস্ত

বিদেশি শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে বাকৃবি অধ্যাপক সাময়িক বরখাস্ত

Post Image

বাকৃবি প্রতিনিধি: মালয়েশিয়ান শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় অভিযুক্ত কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হারুণ-অর-রশিদকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) প্রশাসন।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, 'সোমবার বিকেলে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশের প্রেক্ষিতে অধ্যাপক ড. মো. হারুণ-অর-রশিদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অধ্যাপক ড. মো. হারুণ-অর-রশিদকে শোকজ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ১০ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।'

ওই বিচারের পাশাপাশি বিগত বছরের যৌন হয়রানির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার জন্য সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এদিকে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের লিগাল এইড উপ-পরিষদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ  বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এছাড়া বাংলাদেশে মালয়েশিয়ান দূতাবাস তদন্তের ফলাফল জানতে চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চিঠি পাঠিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ সেপ্টেম্বর ড. হারুণ এর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদে অধ্যয়নরত মালয়েশিয়ান এক নারী শিক্ষার্থী। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির কাজ চলাকালীন বিভিন্ন সময় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

স্বল্পমূল্যে গবাদিপশুর ব্রুসেলোসিসের টিকা তৈরি করলেন বাকৃবির গবেষকদল

স্বল্পমূল্যে গবাদিপশুর ব্রুসেলোসিসের টিকা তৈরি করলেন বাকৃবির গবেষকদল

Post Image

বাকৃবি প্রতিনিধি: গবাদিপশুর গুরুত্বপূর্ন রোগ ব্রুসেলোসিসের ভ্যাকসিন তৈরি করলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের মাইক্রোবায়োলজি এন্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম, একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মোছা. মিনারা খাতুন, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. জামিনুর রহমানসহ বাকৃবির স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীরা।

বাংলাদেশ একাডেমি অফ সাইন্সেস - ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচার ( বিএএস - ইউএসডিএ) এর অর্থায়নে গবেষণাটি সম্পন্ন হয়েছে। ২০২০-২৩ সাল পর্যন্ত এই গবেষণাটি করা হয়।

ব্রুসেলোসিস রোগ নিয়ে অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ব্রুসেলোসিসে আক্রান্ত গরু, ছাগল, ভেড়া যদি গর্ভধারণ করে তখন তাদের গর্ভপাত হতে পারে। গর্ভাবস্থায় থাকাকালীন ৬ মাস পর সাধারণত গর্ভপাতটি হয়ে থাকে। ফলে খামারি একইসাথে বাছুরটি ও হারায় এবং গাভীর দুধের উৎপাদনও কমে যায়। অর্থাৎ খামারে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধিত হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও ব্রুসেলোসিস অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি রোগ, যা ব্রুসেলা ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে হয়ে থাকে। দেশের প্রায় ৫-৬ শতাংশ গবাদিপশু এ রোগে আক্রান্ত। এতে পশু মারা না গেলেও প্রচুর অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধিত হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জুনোটিক রোগের (প্রাণীর থেকে মানুষে ছড়ায়) ক্ষেত্রে বোভাইন যক্ষ্মার পরই ব্রুসেলোসিসের অবস্থান, যা দেশের নীতিনির্ধারক কর্তৃক স্বীকৃত। সাধারনত পশু চিকিৎসক এবং খামারিরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হন। অজ্ঞতাবশত মাস্ক, গ্লাভস ছাড়া ব্রুসেলোসিসে আক্রান্ত প্রাণীর বাছুর বের করতে গেলে অথবা পরিষ্কার করতে গেলে মানবদেহে রোগটি ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ ব্রুসেলায় আক্রান্ত হলে তার কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া সহ নানান সমস্যার দেখা দেয়।

গবেষণা নিয়ে অধ্যাপক জানান, ভ্যাকসিনের ফিল্ড ট্রায়ালের জন্য ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও টাঙ্গাইলের প্রায় ৪০০ গাভীর দেহে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করি এবং পরবর্তীতে ওই গাভীগুলোর এন্টিবডি টেস্ট এর মাধ্যমে নির্ণয় করতে পারি ব্রুসেলোসিসের বিরুদ্ধে উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন টি যথেষ্ট কার্যকর। প্রায় ১ বছর ভ্যাকসিনটির ফিল্ড ট্রায়াল চলে।

ভ্যাকসিন সম্পর্কে অধ্যাপক আরিফুল জানান, বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে 'ব্রুসেলা অ্যাবোরটাস’ (Brucella abortus) এর আধিক্য বেশি দেখা যায়। ব্রুসেলা অ্যাবোরটাস’র বায়োভার-৩ এর বিরুদ্ধে উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর। তবে অন্যান্য বায়োভারের বিরুদ্ধেও ইহা প্রতিরক্ষা দিবে অ্যান্টিজেনিক মিল থাকার কল্যাণে। আমাদের উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনটি মৃত ভ্যাকসিনের অন্তর্গত। প্রতি ছয়মাস অন্তর অন্তর ভ্যাকসিনটির বুস্টার ডোজ দিতে হবে।

ভ্যাকসিনটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং ধরন সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যাপক আরিফুল জানান, ভ্যাকসিন সাধারণত দুইধরণের হয় যেমন: জীবিত ভ্যাকসিন, মৃত ভ্যাকসিন। জীবিত ভ্যাকসিনে অনুজীবটি জীবিত ও দুর্বল থাকে কিন্তু মৃত ভ্যাকসিনে অণুজীবটি মৃত থাকে কিন্তু এন্টিবডি বিদ্যমান থাকে। জীবিত ভ্যাকসিনের অসংখ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে, যেমন: ভ্যাকসিন দেয়ার সময় ইনজেকশনের সুঁচ ঠিকমতো না ফুটলে ওই জীবিত ব্যাকটেরিয়া মানুষ ও অন্য পশুর সংস্পর্শে এসে রোগ সৃষ্টি করতে পারে, গর্ভপাত করতে পারে, জীবিত ভ্যাকসিন সংরক্ষণের জন্য কোল্ড চেইন দরকার পরে এজন্যই আমরা মৃত ভ্যাকসিন নিয়েছি। আমাদের তৈরি ভ্যাকসিনের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি।

পরিশেষে অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ভ্যাকসিনের ফর্মুলা তৈরি আছে তবে বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদন করা হয়নি। তবে পর্যাপ্ত ফান্ডিং এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে হয়তো এর বাণিজ্যিক উৎপাদন সম্ভব। এছাড়াও কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি চায় তাহলে আমরা ভ্যাকসিনটি তৈরি করে তাদের সরবরাহ করতে পারবো। ভ্যাকসিনটির জন্য গবাদিপশু প্রতি খরচ পড়বে মাত্র ৫০ থেকে ১০০ টাকা। বুস্টার ডোজের জন্যও একই খরচ পড়বে। উৎপাদন খরচ, সস্তা কাঁচামাল ও প্রযুক্তিগত বিষয়ে খরচ কম হওয়ায় এতো অল্প মূল্যে ভ্যাকসিনটি সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।

উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল হক ও তার গবেষকদল ২০১৬ সালে দেশে সর্বপ্রথম গবাদিপশুর দেহে ব্রুসেলার উপস্থিতি নির্ণয় করেছিলো।

কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা: শেষ সময়ের প্রস্তুতি

কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা: শেষ সময়ের প্রস্তুতি

Post Image

বাকৃবি প্রতিনিধি: অসংখ্য শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ার।

তবে একজন শিক্ষার্থী কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে সেটা নির্ভর করে যে বিষয়ে তার ক্যারিয়ার গড়ার ইচ্ছা। তেমনি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ইচ্ছাটাও অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে। আসছে ২৫ অক্টোবর হবে সেই কৃষি গুচ্ছ ভর্তিযুদ্ধ। অতীব কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মধ্য দিয়েই একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতা লাভ করেন। অত্যন্ত ধৈর্য, কঠোর সাধনা, অদম্য পরিশ্রম ও তুখোড় মেধা দিয়েই অর্জন করতে হয় এই সাফল্যের মুকুট। বর্তমানে ভর্তি পরীক্ষায় প্রতিযোগিতা বহুগুণ বেড়ে গেছে এবং বদলে গেছে প্রশ্নকাঠামো ও পরীক্ষার ধরনও। সঠিক প্রস্তুতির অভাব ও কিছু ভুলের কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থী দিনশেষে পরাজয় মেনে নেন। তাই এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে এবং দিনশেষে নিজেকে সফল প্রমাণ করতে হলে শেষ সময়ে কিছু কর্মপন্থা মেনে চলা খুবই জরুরি।

প্রথমেই দরকার পাঠ পরিকল্পনা তৈরি করা ও টপিক বিশ্লেষণ। যোদ্ধারা অবশ্যই জানেন এমসিকিউ পদ্ধতিতে ১০০ নম্বরে পরীক্ষা হবে। ২০২৩ সালের এইচএসসি/সমমানের পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী (ইংরেজি ১০, প্রাণিবিজ্ঞান ১৫, উদ্ভিদবিজ্ঞান ১৫, পদার্থবিজ্ঞান ২০, রসায়ন ২০ ও গণিত ২০) সর্বমোট ১০০ নম্বরে পরীক্ষাটি হবে।

ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করতে হলে পরীক্ষার সিলেবাস সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। এক্ষেত্রে শেষ সময়ে টপিক অনুযায়ী পড়াশোনা এগিয়ে নিতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো ভালোভাবে পড়তে হবে এবং কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে কম সময় দেওয়াই শ্রেয়। যে কোনো টপিকের বেসিক সম্পর্কে খুবই ভালো ধারণা থাকতে হবে এবং টপিক বুঝে মনে রাখার চেষ্টা করতে হবে। ভিত্তি মজবুত থাকলে যে কোনো প্রশ্নের সহজেই উত্তর করা সম্ভব।

কী পড়বেন? কতটুকু পড়বেন? কীভাবে পড়বেন? প্রতিদিনের পাঠ পরিকল্পনায় সবকিছু অন্তর্ভুক্ত করুন এবং তা মেনে চলুন। শেষ সময়ে প্রাণিবিজ্ঞান ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বেশি বেশি পড়তে পারেন।

যেহেতু গণিত অংশ উত্তর করতে সময় লাগবে তাই যারা হিসাব কষতে সময় লাগান তাদের জন্য শেষে উত্তর করাই ভালো। এদিকে ইংরেজিতে পুরাতন প্রশ্নব্যাংক দেখলেই বুঝবেন প্রশ্ন তেমন কঠিন হয় না। তবে বেশি খুশি না হয়ে মনোযোগ দিয়ে বুঝে উত্তর দাগাবেন। পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন অংশের জন্য প্রশ্নব্যাংক দেখতে পারেন। এখানে টপিক বিশ্লেষণ করলে প্রশ্ন কোন জায়গা থেকে বেশি দিবে সহজেই তা বুঝতে পারবেন।

শেষ সময়ে কিছু জরুরি ব্যবস্থাপনা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিযুদ্ধে বিজয় হাসিল করতে অনেক রণকৌশল রপ্ত করতে হয়। সময় ব্যবস্থাপনা তার মধ্যে অন্যতম। শেষ সময়ে প্রচুর অনুশীলন প্রয়োজন যাতে কীভাবে কম সময়ের মধ্যে সঠিক উত্তর করা যায়। এর জন্য শর্টকাট টেকনিক, অপশন টেস্টিংসহ আরও বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করতে হবে।

একটি নির্দিষ্ট টাইম সেট করে নিজেকে যাচাই করতে হবে। সময় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিযুদ্ধে অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাদ পড়ে যান। প্রতিনিয়তই প্রত্যেক বিষয়কে প্রায় সমান গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হয়। তাই সাফল্য পেতে হলে শেষ সময়ে অধিক মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে।

দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিবো এমন চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে। ভর্তির সঠিক প্রস্তুতি নিতে ব্যর্থ হলে শিক্ষার্থীরা সেকেন্ড টাইম পরীক্ষা দিবো এমন চিন্তা করে। তবে এমন চিন্তাই তাদের পড়াশোনার বেগ মন্থর করে দেয়। তাই আজকের কাজ আজকেই করতে হবে। শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য নির্ধারণ করে সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া খুবই জরুরি এবং পাঠ্যপুস্তক ভালোভাবে আয়ত্তে থাকা জরুরি।

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার মূলভিত্তিই হলো উচ্চ মাধ্যমিকের বিষয়গুলো। তাই পাঠ্যপুস্তক খুবই ভালোভাবে আত্মস্থ করা জরুরি। তাই উচ্চ মাধ্যমিক বইয়ের প্রতিটি বিষয় আগে থেকে আয়ত্তে থাকলে শেষ সময়ে বেশি ঝামেলায় পড়তে হয় না। মাঝে মাঝে দেখা যায় একজন লেখকের বই পড়লে হয় না। তথ্যবহুল ভিন্ন ভিন্ন লেখকের বই থাকায় প্রথমে একটি বই আয়ত্ত করতে হবে। আর অতিরিক্ত তথ্য জানার জন্য বাজারে প্রচলিত গাইড বইয়ের সাহায্য নিতে পারেন।

পড়াশোনা নিয়মিত করা খুবই জরুরি। অন্যথায় পড়াশোনার ছন্দ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে একজন শিক্ষার্থী যে বিষয়গুলো অধ্যয়ন করেন, তা পরে ভুলে যান। এক দিন পড়তে না বসলে পরে আর পড়তে ইচ্ছে করবে না। আপনার মনোযোগ নষ্ট করার জন্য এটুকুই যথেষ্ট। শেষ সময়ে এমন ভুল করা চলবে না। কাঙ্খিত সাফল্য খুবই কাছে। তাই নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যেতে হবে। কঠিন বিষয়গুলো বারবার পড়তে হবে।

নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হবে। ইতিবাচক মনোভাব ও আত্মবিশ্বাসী হওয়া খুবই জরুরি। 'আমি পারব, আমাকে পাড়তেই হবে'- এটি নিজের মাঝে ধারণ করতে হবে। এ সময় অন্য কারও সঙ্গে নিজেকে তুলনা করা যাবে না। নেতিবাচক চিন্তাভাবনা এবং আত্মসন্দেহ শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসকে হ্রাস করে। আত্মবিশ্বাসী মনোভাব, সময়ানুবর্তিতা এবং ভালো প্রস্তুতি আপনাকে নিয়ে যাবে স্বপ্নের চূড়ান্ত শিখরে।

তিতুমীর কলেজে কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের সাথে মতবিনিময় সভা

তিতুমীর কলেজে কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের সাথে মতবিনিময় সভা

Post Image

মো. জুবায়ের ইসলাম, তিতুমীর কলেজ প্রতিনিধি:
সরকারি তিতুমীর কলেজে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সাথে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।



মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) সরকারি তিতুমীর কলেজে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে শিক্ষক পরিষদের শিক্ষকবৃন্দের সাথে শিক্ষক মিলনায়তনে এবং শিক্ষার্থীদের সাথে শহীদ বরকত মিলনায়তনে শহীদের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত গণঅভ্যুত্থানকে সমুন্নত রাখতে ফ্যাসিবাদের বিলোপ ও রাষ্ট্র সংস্কারে ছাত্র সমাজের করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। 

মতবিনিময় সভায় কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, মব জাস্টিসের মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করে যেভাবে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে এইগুলো আমরা কখনোই সমার্থন করি না। তিনি বলেন, আমরা যে দল বা মতের হই না কেন জনতার প্রশ্নে, ক্ষমতার প্রশ্নে ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। প্রশাসনে থাকা ফ্যাসিস্টবাদের দালালদের বরখাস্ত করতে হবে। যে সংবিধান একাত্তর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এসে আমাদের জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারেনি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি ও ফ্যাসিস্ট শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করেছে সেই সংবিধান বাতিল করার আহবান জানান।

সমন্বয়ক তারিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের লড়াই এখনো শেষ হয়নি। যারা আমাদের ভাইদের উপর হামলা করেছে তারা এখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে, ডিপার্টমেন্টে ও হল গুলোতে পুনর্বাসিত হচ্ছে। যারা আমাদের উপর গুলি চালিয়েছে তাদের সুধু বদলি করা হচ্ছে তাদেরকে শাস্তির মুখামুখি করার জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক শীপ্রা রানী মন্ডল বলেন, বৈষম্যর প্রতিরোধ এটি সবাই করে না এটা তারুণ্য করে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তারা আমাদের গর্ব তাদের আত্মদানের কারণে আমরা সাম্যের সমাজ প্রতিষ্ঠার দিকে এগিয়ে চলেছি। আমি আমার শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের উপযোগী শিক্ষার্থী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যে ত্যাগ, কষ্ট করা উচিৎ তা করতে আমি প্রস্তুত। আমি একজন শিক্ষক হিসেবে সব সময় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকব।

তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবি শিক্ষার্থীদের

তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবি শিক্ষার্থীদের

Post Image

মো. জুবায়ের ইসলাম, তিতুমীর কলেজ প্রতিনিধি:: সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবিতে মানববন্ধন ও র‍্যালির আয়োজন করেছে তিতুমীরের শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার ( ৮ অক্টোবর) সকাল ১০ টার দিকে শহীদ মামুন চত্বরে মানববন্ধন করে নিউ এয়ারপোর্ট রোড থেকে গাউসুল আজম মসজিদ পর্যন্ত রেলের আয়োজন করা হয়।

র‍্যালি শেষে শিক্ষার্থীরা তিতুমীর কলেজের মূল ফটকের সামনে মানববন্ধনে তাদের দাবি গুলো উত্থাপন করেন। শিক্ষার্থীরা বলেন, তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার দাবি অনেক দিনের। এ দাবি সকল শিক্ষার্থীদের। তিতুমীরের সকল অবকাঠামোগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তিতুমীর কেন বিশ্ববিদ্যালয় হবে না? এ প্রশ্ন সকল সাধারণ শিক্ষার্থীদের। সর্বশেষ শিক্ষার্থীরা বলেন, দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা দেন তারা।

র‍্যালির সময় শিক্ষার্থীরা, ‘ঢাবির আগ্রাসন মানি না, মানবো না’, ‘শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য চলবে না, চলবে না’, ‘অধ্যক্ষ না, ভিসি ভিসি ভিসি’, ‘অধিভুক্তি না, মুক্তি মুক্তি মুক্তি’, ‘ঢাকা উত্তর কী চায়? বিশ্ববিদ্যালয়’, ‘মহাখালী কী চায়? বিশ্ববিদ্যালয়’, এবং ‘গুলশান কী চায়? বিশ্ববিদ্যালয়’ স্লোগান দেন।

অতীতে জিন্নাহ কলেজ নামে ১৯৬৮ সালে সরকারি তিতুমীর কলেজ প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৭১ সালের ২ মার্চ চূড়ান্ত ভাবে সরকারি কলেজ নাম রাখা হয়। ১৯৯৭ সালে ১ম সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার প্রস্তাবনা যায় অফিসিয়াললি। ২০০৫ সালে সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার লক্ষে প্রথম দফা আন্দোলন হয়। ২০১৪ সালে তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরিত করার আন্দোলনের তীব্রতা ব্যাপক বেড়ে যায়। এতে তখনকার সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহতও হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সরকারি তিতুমীর কলেজসহ রাজধানীর সাতটি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে অধিভুক্তির পর থেকেই তিতুমীর কলেজ নানা সমস্যায় জর্জরিত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ফলাফল-জট, সমন্বয়হীনতা, শিক্ষক সংকট, শিক্ষার মানের অবনতি, নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা না হওয়া এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ।

এক শিক্ষার্থী বলেন, তিতুমীর কলেজ ঢাকা শহরের মধ্যে একটি ঐতিহ্যবাহী কলেজ । তিতুমীর কলেজ এর ঐতিহ্যের সাথে সাথে শিক্ষার মান যতটা উন্নয়ন হওয়া প্রয়োজন তার থেকে পিছিয়ে রয়েছে। শিক্ষার মান উন্নয়ন করার জন্য বিগত সরকার তিতুমীর কলেজকে ঢাবির অধিভুক্ত করেছে। কিন্তু আমরা দেখেছি শিক্ষার মান উন্নয়ন হওয়ার চেয়ে অবনতি হয়েছে বেশি। আমরা ঢাবির সাথে এই বৈষম্য আর চাই না। আমরা একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় চাই। আমরা যেনো উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের শিক্ষাঙ্গনকে আরো উন্নত করতে পারি, তাই আমরা সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবি জানাচ্ছি।

বাকৃবিতে আবরার ফাহাদ স্মরণে বাকৃবি ছাত্রদলের স্মরণসভা

বাকৃবিতে আবরার ফাহাদ স্মরণে বাকৃবি ছাত্রদলের স্মরণসভা

Post Image

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের ৫ম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে নিরাপদ ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাসের দাবিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শাখার মৌন মিছিল ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে মৌন মিছিলটি শুরু হয় এবং মিছিলটি ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে শুরু হয়ে প্রশাসনিক ভবন হয়ে মুক্তমঞ্চের সামনে এসে শেষ হয়।পরে সেখানে একটি সমাবেশে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আবরার ফাহাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এবং আবরার হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানায়।

বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক কৃষিবিদ মো. আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব কৃষিবিদ মো. শফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এ. এম. শোয়াইব, যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম তুষার, সদস্য মিজানুর রহমান ও ইসমাইল হোসেনসহ বিভিন্ন হলের প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী।

এসময় বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজনীতি করেছে। শিক্ষার্থীদের মুখ চেপে ধরেছে। বাক স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কোন প্রকার প্রতিবাদ করলেই শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক দলের ট্যাগ দেয়া হয়েছে। কোন প্রকার অন্যায়ের প্রমান ছাড়াই জেলে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এসকল অবৈধ ফ্যাসিস্টদের জবাব দিতে হবে। এ ধরনের ত্রাসের রাজনীতি আর চলবে না বাকৃবি ক্যাম্পাসে। আবরার ফাহাদ একজন মেধাবী ছাত্র ছিল। ২০১৯ সালের ৭ই অক্টোবর রাতে বুয়েট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে ২০২১ নম্বর রুমে নিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করে, যার ফলে তার মৃত্যু হয়। তার অপরাধ ছিল শুধুমাত্র ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়া। বাকৃবিতে তৎকালীন সময়ে (২০১৪ সালে) সাদ হত্যা হয়েছে, রাব্বি হত্যা হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো হত্যার বিচার হয়নি। আমরা এসব হত্যাকান্ডের বিচার চাই।

সাত কলেজে শিক্ষা সংকট সমাধানে আলোচনা

সাত কলেজে শিক্ষা সংকট সমাধানে আলোচনা

Post Image

সোহরাওয়ার্দী কলেজ প্রতিনিধি:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন বলেছেন, সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে হবে তা আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করতে হবে।

বর্তমান এই সময়টা খুব ভালো সময়, এমন সময় দেশে আর আসবে কিনা জানিনা। তিনি বলেন, সাত কলেজ শিক্ষার্থীরা নিষ্পেষণের শিকার। আমাদের চিন্তা-ভাবনা করে এ সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ভালো থাকলে দেশের সবাই ভালো থাকবে। সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের যা চাওয়া, আমারো একই চাওয়া।

বুধবার (২আক্টোবর) ঢাকা কলেজ অডিটোরিয়ামে ‘৭ কলেজের শিক্ষা সংকট সমাধান কোন পথে?’ শীর্ষক শিক্ষার্থী-শিক্ষক সংলাপে এমন মন্তব্য করেন অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন। সাত কলেজ বিষয়ক শিক্ষার সংকট শিক্ষার্থী শিক্ষক সংলাপের আয়োজন করেন সাত কলেজ শিক্ষার্থী নেটওয়ার্ক। এতে শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা শিক্ষার ক্ষেত্রে সাত কলেজের সমস্যা ও সমাধানের বিষয়ে মতামত দেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন, ঢাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আইনুল ইসলাম,ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক তাসনীম সিরাজ মাহবুব, শিক্ষা ও শিশু রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক রাখাল সাহা সহ সাত কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

ঢাবির পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা কেউ কারো প্রতিপক্ষ না। আমি ছয়-সাত বছর ধরে ভেবেছি সাত কলেজের সমস্যার বিষয়ে। সমস্যা সমাধান আলোচনা স্বাপেক্ষ। সাত কলেজ সৃষ্টির পেছনে তোমাদের মঙ্গলের কথা বিবেচনা না করে, সব পক্ষের সাথে আলোচনা না করে, একজন বা দুইজন মানুষের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এটি করা হয়েছে। রাষ্ট্র তোমাদের কথা কখনও ভাবে নাই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজগুলোতে ক্লাসরুম, শিক্ষক কতজন? দুইটা রুমে অনার্স, মাস্টার্স, এইচএসসি সবকিছু হয়। শিক্ষকদের বসার জায়গার পর্যন্ত সংকট রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তোমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অবহেলা করা হয়। আমাদের যেকোন সিদ্ধান্তের পেছনে কোন ভাবনা নেই, অনেক গ্রুপের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় করা যায় কিন্তু ঢাবি এখনো পরিপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পোস্টডক, পিএইচডি লাগবে। পোস্টডক নেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। পোস্টডক,পিএইচডি মাধ্যমে নতুন নতুন জ্ঞান তৈরি হয়। আমাদের জ্ঞান তৈরির বিশ্ববিদ্যালয় নেই।

সাত কলেজ শিক্ষার সংকট সংলাপ সভায় সাত কলেজের বিভিন্ন সংকটের কথা তুলে ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আইনুল ইসলাম বলেন, আমার বিভাগে পড়লে কী ধরণের স্কলার তৈরি হবে এটা আমরা ঠিক করতে পারিনি। আশা করি ক্রমান্বয়ে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে। বক্তব্যে সাত কলেজ কোন পথে যাবে তিনি প্রশ্ন রাখেন শিক্ষার্থীদের কাছে। শিক্ষার্থীরা এসময় সাত কলেজকে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি জানান।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের ঠিকমতো সেবা দিতে পারে না। সেক্ষেত্রে সাত কলেজে কিভাবে দেড় লাখ শিক্ষার্থীদের সেবা দেওয়া সম্ভব। সাত কলেজকে একসাথে করে কি করা যায় সেটা নিয়ে এখন ভাবতে হবে। প্রত্যক কলেজকে সেন্টার এফ এক্সিলেশন করা সম্ভব। আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয় এর সমাধান। প্রত্যক কলেজকে বিশেষায়িত স্থান হিসেবে তৈরি করা যায়। যেমন- ইনস্টিটিউট অফ বিজনেস, ইনস্টিটিউট অফ সাইন্স ইত্যাদি।

সাত কলেজ সমস্যার বিষয়ে ঢাকা কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, ১৫ বছর ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আন্দোলন করেছিল সফল হয়নি। শিক্ষার্থীরা ১৫ দিনে সফল হয়েছে। সাত কলেজের সমস্যার সমাধান শিক্ষার্থীদের কাছেই আছে। শিক্ষার্থীরা চাইলে খুব শিগগিরই সাত কলেজের সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

সংলাপ সভায় সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা বলেন, সাত কলেজের জন্য কোন একাডেমিক ক্যালেন্ডার নেই। সার্টিফিকেট ও কাগজপত্র তুলতে গেলে অনেক সমস্যায় পড়তে হয় । কলেজগুলোতে ক্লাসরুমের সংকট। স্বতন্ত্র পরীক্ষা কেন্দ্র সাত কলেজের কোথাও নেই। ফলাফলে প্রকাশে বিলম্ব হয়। যার ফলে ঠিকমতো ক্লাস হয় না। কলেজগুলোতে ২০ হাজার শিক্ষার্থী নতুন করে ভর্তি হয় কিন্তু পর্যাপ্ত আবাসন নেই। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নেই ইত্যাদি সমস্যার কথা তুলে ধরেন তারা। ঢাবির সাথে আমাদের সম্পর্ক শোষিতের উল্লেখ করে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি জানান সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা।

মহানবীকে কটূক্তির প্রতিবাদে সোহরাওয়ার্দী কলেজ শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ মিছিল

মহানবীকে কটূক্তির প্রতিবাদে সোহরাওয়ার্দী কলেজ শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ মিছিল

Post Image

সোহরাওয়ার্দী কলেজ প্রতিনিধি:
ভারতের একজন পুরোহিত বিশ্বনবী হজরত মোহাম্মদকে (সা.) কটূক্তি এবং বিজেপি নেতার তাতে সমর্থন করায় প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীরা।



বুধবার (২ অক্টোবর) দুপুরে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ থেকে মিছিল ও সমাবেশ শুরু করে পুরান ঢাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ভিক্টোরিয়া পার্কে এসে শেষ হয়।

এ প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশে তারা ইসলাম ধর্মের অনুভূতিতে আঘাত করবার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। এছাড়াও ভারতীয় মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চয়তার দাবি জানানো হয়। শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা আমাদের নবীকে (সা.) সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। আমাদের মা-বাবাকে আমরা যতটুকু ভালোবাসি, আমাদের প্রিয় নবীকে আমরা তার থেকেও বেশি ভালোবাসি। তার অপমান আমরা কখনো সহ্য করব না।

তারা বলেন, রাসুল (সা.) আমাদের যতটুকু ভালোবাসেন, ততটুকু আর কেউ আমাদের ভালোবাসতেন না। কেয়ামতের দিন আমাদের মা-বাবারাও ‘ইয়া নফসি ইয়া নফসি’ বলবেন। শুধুমাত্র আমাদের রাসুল (সা.) বলবেন, ‘ইয়া উম্মাতি, ইয়া উম্মাতি’। আমরা সেই নবীর কোনো অপমান সহ্য করব না।

এসময় শিক্ষার্থীদের মুখে দ্বীন ইসলাম জিন্দাবাদ, বিশ্ব নবীর অপমান সইবে না রে মুসলমান এসব স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে পুরান ঢাকার সড়কগুলো।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ভারতের মহারাষ্ট্রে এক পুরোহিত মহানবীকে (সা.) অবমাননা করলে সেখানকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর প্রতিবাদে মুম্বাইয়ের উদ্দেশে লাখো মুসলিম জনতা লংমার্চ করেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশেও বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়

বাকৃবিতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ান শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

বাকৃবিতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ান শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

Post Image

বাকৃবি প্রতিনিধি: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হারুণ-অর-রশিদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষার্থীরা। শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল জব্বার মোড়ে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে ওই বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীরাও সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন।

নেপালি শিক্ষার্থী বিক্রম ধোজু বলেন, আমাদের বিদেশি শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকের খারাপ আচরণের খবর শুনে আমরা চুপ করে বসে থাকব না। ওই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। আমরা চাই আইনের মাধ্যমে সকল অপরাধীর শাস্তি হোক। শ্লীলতাহানিকারীকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে। এ ঘটনার যথাযথ তদন্ত হোক। এটি বর্তমানে কেবল বিদেশি শিক্ষার্থীদের ব্যাপার নয়, এটি এখন আমাদের সবার চিন্তার বিষয়। শুধু বিদেশিরাই নয়, বাঙালি শিক্ষার্থীরাও এই এনসিডি (নন কমিউনিকেবল ডিজিজ) রোগে আক্রান্ত। একজন ভুক্তভোগীর জন্য আইনি প্রক্রিয়ার বিলম্ব হওয়া অন্যায়ের সমান।

ঘটনার প্রেক্ষিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূইঁয়া জানান, এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখন তদন্ত কমিটির রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি। এখানে অপরাধী কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই ন্যায় বিচার করবো।’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অধ্যাপক ড. মো হারুন-অর-রশিদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও লাঞ্ছনার অভিযোগ করেছে মালয়েশিয়ার নারী শিক্ষার্থী। ঘটনাটি জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুব আলমকে আহ্বায়ক এবং বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. শহিদুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এদিকে এই সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিবেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুব আলম।

নারী শিক্ষার্থীদের হামলায় জড়িতদের বিচার চেয়ে ঢাবিতে বিক্ষোভ

নারী শিক্ষার্থীদের হামলায় জড়িতদের বিচার চেয়ে ঢাবিতে বিক্ষোভ

Post Image

ঢাবি প্রতিনিধি: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারী শিক্ষার্থীদের উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হামলায় জড়িতদের বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে একদল নারী শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুম, সমন্বয়ক আশরাফা খাতুন, ক্রিমিনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেরিন সকাল, নাহিদা সুলতানাসহ আরও কিছু নারী শিক্ষার্থী। তাছাড়া এতে বক্তব্য রাখেন সমন্বয়ক হান্নান মাসুদ ও মাহিন সরকার।

বক্তব্যে নারী শিক্ষার্থীরা বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের উপর হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে এখনও কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আমরা হামলাকারীদের সাথে হল ও ক্লাসে একসাথে অবস্থান করতে পারবো না।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হান্নান মাসুদ বিক্ষোভ সমাবেশে তার বক্তব্যে বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন আজ একমাসের বেশি সময় হয়েছে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহন করেছে কিন্তু ছাত্রলীগের যে সন্ত্রাসীরা নারীদের উপর টার্গেট করে আক্রমণ করেছে প্রশাসন তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে বলবো, আমাদের এই নিরাপদ ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসীরা আমাদের উপর হামলা করেছে তৎকালীন ভিসি প্রক্টর সহকারী প্রক্টর এর হামলার জন্য দায়ী।তৎকালীন ভিসি প্রক্টর সহ প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ সভাপতি সাধারণ সম্পাদক সহ যারা আমাদের বোনদের উপর হামলা করেছে, তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। " প্রশাসননে তিনি প্রশ্ন করেন, "আর কত দিন লাগবে বিচার করতে? আমাদের বোনদের আবার রাজু ভাষ্কর্যে দাড়াতে হচ্ছে বিচারের জন্য। আমরা প্রশাসনকে বলবো আমাদের নারীদের আবার রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না। দ্রুত যারা নির্যাতনের সাথে জড়িত তাদের চিহ্নিত করুন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ থেকে বহিষ্কার করুন। এবং তাদের প্রত্যেকের সার্টিফিকেট বাতিল করে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে"

আরেক সমন্বয়ক মাহিন সরকার বলেন," আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কছে জানতে চাই, ছাত্রলীগের যেসব সন্ত্রাসী আমাদের বোনেদের আহত করেছে তারা কীভাবে এখনো ক্লাস করে? একই সাথে আমরা সরকারের কাছে জবাবদিহিতা চাই কেন এখনও সেই সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়"

সমন্বয়ক নুসরাত তাবাসসুম বলেন, "এই রাজুতে আন্দোলন সমাপ্ত হওয়ার এক দুইমাস পর দাঁড়ানোটা লজ্জাজনক। কারণ আজ থেকে দুইমাস আগে স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল হলের তালা ভাঙবো আমার ভাইকে আনবো। আমরা লীগের সন্ত্রাসীদের সঙ্গে একসঙ্গে ক্লাসে বসবোনা, বসবোনা, বসবোনা। একই হলে লীগের সন্ত্রাসীদের সঙ্গে থাকবোনা, থাকবোনা, থাকবোনা। যদি প্রশাসনের কোন ব্যক্তির প্রত্যক্ষ মদদে লীগের কোন সন্ত্রাসীকে পুনর্বাসন করা হয় আমরা তাকেও লীগের দোসর হিসেবে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনবো।" হামলার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা না করা হলে সারা দেশের নারী শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসবে এবং প্রয়োজনে নারী শিক্ষার্থীরা বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ক্লাসে ফিরবে না বলে প্রশাসনকে সতর্কও করেন এই সমন্বয়ক।

নার্সিং কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার হলেন ছাত্রআন্দোলনের বিপক্ষে থাকা হালিমা খাতুন

নার্সিং কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার হলেন ছাত্রআন্দোলনের বিপক্ষে থাকা হালিমা খাতুন

Post Image

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের (বিএনএমসি) নতুন রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ পেয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সুবিধাভোগী ও জুলাই অভ্যুথান ছাত্রজনতার আন্দোলনের বিপক্ষে থাকা ঢাকা নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ (অবসরপ্রাপ্ত) হালিমা আক্তারকে।

রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের নার্সিং শিক্ষা শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব শাহ্ নুসরাত জাহানের সাক্ষর করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে ৯ এপ্রিল ২০২৪ আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে হালিমা আক্তারকে ৪ বছরের জন্য মেডিকেল শিক্ষা এক্রিডিটেশন বোর্ডের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

স্বৈরাচার সরকারের আমলের মেডিকেল শিক্ষা এক্রিডিটেশন বোর্ডের সদস্য ও আন্দোলনের বিপক্ষে থাকা হালিমা আক্তারকে বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের (বিএনএমসি) গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়ায় নার্সিং সেক্টর নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা ব্যক্তিরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে নার্সিং নেতৃবৃন্দরা জানান, তিনি এ পদে জয়েন করলে তারা প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তাই অবিলম্বে যেন সরকার হালিমা আক্তারের নিয়োগ বাতিল করেন সে দাবি তাদের।

এ বিষয়ে নার্সেস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ন্যাব) সভাপতি জাহানারা খাতুন বলেন, তার বয়স শেষ, তাকে নিয়ম না মেনে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের লোক, তাকে চাইনা।

পদোন্নতি পেলেন তিতুমীর কলেজের ১৯ শিক্ষক

পদোন্নতি পেলেন তিতুমীর কলেজের ১৯ শিক্ষক

Post Image

তিতুমীর কলেজ প্রতিনিধি: বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার থেকে সরকারি তিতুমীর কলেজের ১৬ জন শিক্ষককে সহকারী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে পদন্নোতি দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা বর্তমান কর্মস্থলে পদায়িত (ইনসিটু) বলে গণ্য হবেন এবং তাঁরা সেখান থেকেই বেতন-ভাতা গ্রহণ করবেন। আর পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে কেউ শিক্ষা ছুটি বা লিয়েনে থাকলে তাঁরা ছুটি শেষে যোগদান শেষে পদোন্নতির আদেশ জারি করা হবে।

সরকারি তিতুমীর কলেজের পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন - রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এস, এম কামাল হায়দার, নাসির উদ্দীন, ফাতেমা বেগম, দর্শন বিভাগের মাহফুজা বেগম, ফরিদা ইয়াসমিন, লায়লা ইয়াসমিন ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের রোজিনা ইয়াসমিন, মো: ছালেহ উদ্দিন শেখ

অন্যরা হলেন- প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ফাতেমা ইয়াসমিন, বাংলা বিভাগের সুলতানা নাসরিন সেলি, রসায়ন বিভাগের দিলসাদ জেসমীন, মনোবিজ্ঞান বিভাগের সাজিয়া আফরিন খান, ভূগোল বিভাগের নাহিদ সুলতানা, সমাজকল্যাণ বিভাগের মোসা: মুর্শিদা জাহান এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগের মো: ছালাহ্ উদ্দিন, এম, এম আতিকুজ্জামান। এছাড়াও আরো ৩ জন পদোন্নতি পেয়েছেন। 

ঢাবিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সকল প্রকার রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত

ঢাবিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সকল প্রকার রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত

Post Image

ঢাবি প্রতিনিধি : ক্যাম্পাসে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকল প্রকার রাজনীতি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্য লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সিন্ডিকেট মিটিংয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সিন্ডিকেট সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সিন্ডিকেট সদস্য জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত উপাচার্য লাউঞ্জে একটি জরুরি সিন্ডিকেট মিটিং হয়। সেখানে ২ ঘণ্টা আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ঢাবিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সকল প্রকার রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত

ঢাবিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সকল প্রকার রাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত

Post Image

ঢাবি প্রতিনিধি : ক্যাম্পাসে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকল প্রকার রাজনীতি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্য লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সিন্ডিকেট মিটিংয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সিন্ডিকেট সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সিন্ডিকেট সদস্য জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত উপাচার্য লাউঞ্জে একটি জরুরি সিন্ডিকেট মিটিং হয়। সেখানে ২ ঘণ্টা আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জাবিতে ও ঢাবিতে হত্যাকান্ডের দ্রুত বিচার দাবি ছাত্রদলের

জাবিতে ও ঢাবিতে হত্যাকান্ডের দ্রুত বিচার দাবি ছাত্রদলের

Post Image

ঢাবি প্রতিনিধি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে গণপিটুনির দিয়ে এক যুবককে হত্যা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকে পিটিয়ে হত্যার নিন্দা ও বিচার চেয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রদল।



বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ৫টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে একটি সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

লিখিত বক্তব্যে ছাত্রদল সভাপতি বলেন, চোর সন্দেহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের অতিথিকক্ষে আটকে রেখে তোফাজ্জল নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে একদল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার রাতে কয়েক ঘণ্টা ধরে একাধিকবার মারধরের কারণে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে। অন্যদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শামীম মোল্লাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

আমরা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, উক্ত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবী করছি। অপরাধীরা পালিয়ে যাওয়ার আগেই গ্রেফতারের আহবান জানাচ্ছি।

অনুসন্ধান ও প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের বরাতে কিছু গনমাধ্যমে আমরা দেখেছি- তোফাজ্জলকে সবচেয়ে বেশি মারধর করেছেন ছাত্রলীগের সদ্য পদত্যাগ করা উপ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জালাল আহমেদসহ একদল শিক্ষার্থী। নির্যাতন করা শিক্ষার্থীদের সবাই ফজলুল হক মুসলিম হলের শিক্ষার্থী।

প্রশাসনকে ‘মব জাস্টিস’কে প্রশ্রয় না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে কয়েক ঘণ্টা ধরে মারধর করে একজনকে হত্যা করার ঘটনাকে আমরা হল প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা বলে মনে করছি। ছাত্রলীগের পদধারী কতিপয় সন্ত্রাসী বর্তমানে সাধারণ শিক্ষার্থী নামে হলগুলোতে অবস্থান নিয়েছে। তারা বিভিন্ন সময়ে মব তৈরি করে আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থী নামে সক্রিয় এই 'মব' কে প্রশ্রয় না দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে অনুরোধ করছি। আমাদের দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিস্টবিরোধী সংগ্রাম, ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যই ছিল এদেশে অন্যায় দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি দুরীভূত করা। একজন ব্যক্তি অপরাধী হলেও তাকে কোনভাবেই হত্যার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু জনতার বিজয়ের পর থেকে কিছু অতিউৎসাহীর কারণে গণমানুষের আকাঙ্খা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মনে করে, গণতান্ত্রিক পরিবেশের অনুপস্থিতিতেই ক্যাম্পাসে মব কালচারের বিস্তৃতি ঘটছে। এর পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীর বেশে সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীদের হলে অবস্থান এবং নানান মোড়কে হল ও ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টাও অন্যতম ভূমিকা পালন করছে। 'সাধারণ শিক্ষার্থীর' ব্যানার ব্যবহার করে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অশুভ উদ্বোধন ঘটানো হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে। এই গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের লাঠিয়াল বাহিনী ছাত্রলীগের সন্ত্রাসের উত্তরাধিকার বহন করা এই কথিত 'সাধারণ শিক্ষার্থীদের' মুখোশ খসে পড়েছো 'সাধারণ শিক্ষার্থী নামধারী এই মহলটি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পতিত ফ্যাসিস্ট ও অন্ধকার শক্তির গোপন তাঁবেদার। এদের হাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তথা সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিরাপদ না।

মহান শিক্ষা দিবসে তিতুমীরের শিক্ষার্থীদের ভাবনা

মহান শিক্ষা দিবসে তিতুমীরের শিক্ষার্থীদের ভাবনা

Post Image

মো. জুবায়ের ইসলাম, তিতুমীর কলেজ: আজ ১৭ সেপ্টেম্বর মহান শিক্ষা দিবস।

১৯৬২ সালের এই দিনে পাকিস্তানি শাসন, শোষণ ও শিক্ষা সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শহীদ হন ওয়াজিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফা, বাবুলসহ নাম না-জানা অনেকেই। তাদের স্মরণে এই দিনকে শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

স্বৈরশাসক আইয়ুব খান ক্ষমতা দখলের মাত্র ২ মাস পর ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন। শরীফ কমিশন নামে খ্যাত এসএম শরীফের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশন ১৯৫৯ সালের ২৬ আগস্ট তাদের প্রতিবেদন পেশ করে। এতে শিক্ষা বিষয়ে যেসব প্রস্তাবনা ছিল তা প্রকারান্তরে শিক্ষা সংকোচনের পক্ষে গিয়েছিল। আইয়ুব সরকার এই রিপোর্টের সুপারিশ গ্রহণ এবং তা ১৯৬২ সাল থেকে বাস্তবায়ন করতে শুরু করে। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন আইয়ুবের এই শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।

বর্তমানে জাতীয় শিক্ষাক্রম রুপরেখা - ২০২১ অনুযায়ী ২০২২ সালে পরীক্ষা মূলক ভাবে নতুন পাঠ্যক্রম চালু করা হয়। কিন্তু নতুন এই শিক্ষা কারিকুলাম নিয়ে অনেক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থী চায় নতুন শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন হোক। তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা দিবস নিয়ে কি ভাবছে, টা তুলে ধরেছে মো. জুবায়ের ইসলাম।

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী মো. শিহাব সারার উজ্জ্বল বলেন, শিক্ষা এমন একটি মৌলিক অধিকার যেটা দিয়ে মানুষ নিজের যোগাযোগ, চাহিদা, বোধ, আবেগ, জ্ঞান প্রকাশ করতে পারবে। নিজের ভালো - মন্দ বুঝতে পারবে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা স্বাধীনতার পর থেকে একভাবেই চলে আসছে যেখানে শুধু মুখস্থ বিদ্যার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়। কোনো গঠনমূলক, কারিগরি শিক্ষার প্রচলন খুব একটা নেই আমাদের দেশে। ছোটকাল থেকেই আমাদের বাবা মা একটি নির্দিষ্ট শিক্ষার ভিতরে ঠেলে দেয় আমাদের। আমরা জানিই না আমরা বড় হয়ে কি হবো। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত যেখানে আমরা নিজের ইচ্ছাতে প্রয়োজনের ভিত্তিতে শিক্ষা নিতে পারবো। কিছু কিছু জায়গায় সাম্প্রদায়িকতার কারণে অনেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে না। আমাদের সকলের জন্য শিক্ষা উন্মুক্ত হওয়া উচিত। আমাদের জীবনের জন্য যেই শিক্ষা প্রয়োজন সেটা বাস্তবায়িত করা দরকার। যেই শিক্ষা ব্যবস্থায় পড়ে জীবনের কোনো কাজে আসবে না সেই শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার করা হোক। যেই শিক্ষা ব্যবস্থা কারিগরি ভিত্তিক, অভিজ্ঞতা ভিত্তিক, আদর্শিক হবে সেই শিক্ষা ব্যবস্থা কায়েম করা প্রয়োজন।

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী মো. আল আমিন বলেন, শিক্ষা নিয়ে আমরা চাই বাংলাদেশে নতুন যে কারিকুলাম হয়েছে এটা অতিসত্তর একটা পরিবর্তন দরকার। আমরা দেখেছি যে স্কুল পর্যায়ে গ্রুপিং গুলো তুলে নেওয়া হয়েছে, এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হ য ব র ল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা গত ১ বছরে যেই পরিবর্তন দেখেছি সেগুলোর পরিবর্তে আমাদের ইংরেজি ভার্সন এর যে কারিকুলাম রয়েছে সেই হিসেবে যাতে বাংলাদেশের শিক্ষা কারিকুলামে সংস্কার করা হয় এটাই আমার প্রত্যাশা।

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় আমাদের মূল সমস্যা , এখানে যেই জ্ঞান অর্জন আমাদের প্রয়োজন সেগুলো আমাদের শিখানো হয় না। অনার্স শেষ করার পর আমরা জানি না আমাদের ভবিষ্যৎ কি হবে। উন্নত দেশগুলো তে ১৮ বছর বয়সের পরই তারা নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু আমরা ২৫ বছর বয়স হয়ে গেলেও ফ্যামিলি থেকে টাকা আনতে হয়।

তিনি আরো বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্যের কারণে সবাই সমান সুযোগ পেয়ে থাকে না। দেখা গেছে একই ক্লাসে পড়াশুনা করে করো বাবা নিম্নস্তরের কর্মকর্তা, আবার কারো বাবা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। এতে উভয়ের মাঝে মৌলিক অধিকার প্রাপ্তির বিশাল ব্যবধান দেখা যায়। উচ্চপদস্থ লোকের ছেলেমেয়েরা ক্লাস ১০ এর পরেই বিদেশ চলে যায়, দেশে ব্যাক করে না আর। আর এদিকে নিম্নস্তরের লোকের ছেলেমেয়েরা দেশে বিসিএস এর জন্য বসে থাকে। তো যে বেশি সুযোগ সুবিধা পায় তার দেশের জন্য কোনো ভূমিকা থাকে না। আর যারা দেশের জন্য ভূমিকা রাখে তারা সুযোগ সুবিধা পায় না ঠিক মতো। তো শিক্ষার এই বৈষম্য আমাদের দেশে সংস্কার করা দরকার।

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী আল নোমান নিরব বলেন, সেকুলার পন্থী শিক্ষা কারিকুলাম আমরা চাই না। সেকুলার পন্থী করে ব্যবস্থায় পশ্চিমা বিশ্বের কালচার আমাদের মধ্যে ঢুকে পড়ছে। তিনি বলেন, নতুন যে শিক্ষা কারিকুলাম হয়েছে সেটি বাতিল করতে হবে। নতুন করে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা করতে হবে যেখানে কোনো ধর্ম নিরপেক্ষ নিয়মনীতি থাকবে না। পশ্চিমা অপসংস্কৃতি যেগুলো আমদানি হচ্ছে সেগুলো দূর করে নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে আমাদের অনেক উপকার হবে।

মহান শিক্ষা দিবসে তিতুমীরের শিক্ষার্থীদের ভাবনা

মহান শিক্ষা দিবসে তিতুমীরের শিক্ষার্থীদের ভাবনা

Post Image

মো. জুবায়ের ইসলাম, তিতুমীর কলেজ: আজ ১৭ সেপ্টেম্বর মহান শিক্ষা দিবস।

১৯৬২ সালের এই দিনে পাকিস্তানি শাসন, শোষণ ও শিক্ষা সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শহীদ হন ওয়াজিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফা, বাবুলসহ নাম না-জানা অনেকেই। তাদের স্মরণে এই দিনকে শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

স্বৈরশাসক আইয়ুব খান ক্ষমতা দখলের মাত্র ২ মাস পর ১৯৫৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন। শরীফ কমিশন নামে খ্যাত এসএম শরীফের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশন ১৯৫৯ সালের ২৬ আগস্ট তাদের প্রতিবেদন পেশ করে। এতে শিক্ষা বিষয়ে যেসব প্রস্তাবনা ছিল তা প্রকারান্তরে শিক্ষা সংকোচনের পক্ষে গিয়েছিল। আইয়ুব সরকার এই রিপোর্টের সুপারিশ গ্রহণ এবং তা ১৯৬২ সাল থেকে বাস্তবায়ন করতে শুরু করে। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন আইয়ুবের এই শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।

বর্তমানে জাতীয় শিক্ষাক্রম রুপরেখা - ২০২১ অনুযায়ী ২০২২ সালে পরীক্ষা মূলক ভাবে নতুন পাঠ্যক্রম চালু করা হয়। কিন্তু নতুন এই শিক্ষা কারিকুলাম নিয়ে অনেক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থী চায় নতুন শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন হোক। তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা দিবস নিয়ে কি ভাবছে, টা তুলে ধরেছে মো. জুবায়ের ইসলাম।

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী মো. শিহাব সারার উজ্জ্বল বলেন, শিক্ষা এমন একটি মৌলিক অধিকার যেটা দিয়ে মানুষ নিজের যোগাযোগ, চাহিদা, বোধ, আবেগ, জ্ঞান প্রকাশ করতে পারবে। নিজের ভালো - মন্দ বুঝতে পারবে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা স্বাধীনতার পর থেকে একভাবেই চলে আসছে যেখানে শুধু মুখস্থ বিদ্যার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়। কোনো গঠনমূলক, কারিগরি শিক্ষার প্রচলন খুব একটা নেই আমাদের দেশে। ছোটকাল থেকেই আমাদের বাবা মা একটি নির্দিষ্ট শিক্ষার ভিতরে ঠেলে দেয় আমাদের। আমরা জানিই না আমরা বড় হয়ে কি হবো। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত যেখানে আমরা নিজের ইচ্ছাতে প্রয়োজনের ভিত্তিতে শিক্ষা নিতে পারবো। কিছু কিছু জায়গায় সাম্প্রদায়িকতার কারণে অনেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে না। আমাদের সকলের জন্য শিক্ষা উন্মুক্ত হওয়া উচিত। আমাদের জীবনের জন্য যেই শিক্ষা প্রয়োজন সেটা বাস্তবায়িত করা দরকার। যেই শিক্ষা ব্যবস্থায় পড়ে জীবনের কোনো কাজে আসবে না সেই শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার করা হোক। যেই শিক্ষা ব্যবস্থা কারিগরি ভিত্তিক, অভিজ্ঞতা ভিত্তিক, আদর্শিক হবে সেই শিক্ষা ব্যবস্থা কায়েম করা প্রয়োজন।

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী মো. আল আমিন বলেন, শিক্ষা নিয়ে আমরা চাই বাংলাদেশে নতুন যে কারিকুলাম হয়েছে এটা অতিসত্তর একটা পরিবর্তন দরকার। আমরা দেখেছি যে স্কুল পর্যায়ে গ্রুপিং গুলো তুলে নেওয়া হয়েছে, এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হ য ব র ল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা গত ১ বছরে যেই পরিবর্তন দেখেছি সেগুলোর পরিবর্তে আমাদের ইংরেজি ভার্সন এর যে কারিকুলাম রয়েছে সেই হিসেবে যাতে বাংলাদেশের শিক্ষা কারিকুলামে সংস্কার করা হয় এটাই আমার প্রত্যাশা। 

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসান বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় আমাদের মূল সমস্যা , এখানে যেই জ্ঞান অর্জন আমাদের প্রয়োজন সেগুলো আমাদের শিখানো হয় না। অনার্স শেষ করার পর আমরা জানি না আমাদের ভবিষ্যৎ কি হবে। উন্নত দেশগুলো তে ১৮ বছর বয়সের পরই তারা নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু আমরা ২৫ বছর বয়স হয়ে গেলেও ফ্যামিলি থেকে টাকা আনতে হয়। তিনি আরো বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্যের কারণে সবাই সমান সুযোগ পেয়ে থাকে না। দেখা গেছে একই ক্লাসে পড়াশুনা করে করো বাবা নিম্নস্তরের কর্মকর্তা, আবার কারো বাবা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। এতে উভয়ের মাঝে মৌলিক অধিকার প্রাপ্তির বিশাল ব্যবধান দেখা যায়। উচ্চপদস্থ লোকের ছেলেমেয়েরা ক্লাস ১০ এর পরেই বিদেশ চলে যায়, দেশে ব্যাক করে না আর। আর এদিকে নিম্নস্তরের লোকের ছেলেমেয়েরা দেশে বিসিএস এর জন্য বসে থাকে। তো যে বেশি সুযোগ সুবিধা পায় তার দেশের জন্য কোনো ভূমিকা থাকে না। আর যারা দেশের জন্য ভূমিকা রাখে তারা সুযোগ সুবিধা পায় না ঠিক মতো। তো শিক্ষার এই বৈষম্য আমাদের দেশে সংস্কার করা দরকার। 

তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী আল নোমান নিরব বলেন, সেকুলার পন্থী শিক্ষা কারিকুলাম আমরা চাই না। সেকুলার পন্থী করে ব্যবস্থায় পশ্চিমা বিশ্বের কালচার আমাদের মধ্যে ঢুকে পড়ছে। তিনি বলেন, নতুন যে শিক্ষা কারিকুলাম হয়েছে সেটি বাতিল করতে হবে। নতুন করে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা করতে হবে যেখানে কোনো ধর্ম নিরপেক্ষ নিয়মনীতি থাকবে না। পশ্চিমা অপসংস্কৃতি যেগুলো আমদানি হচ্ছে সেগুলো দূর করে নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে আমাদের অনেক উপকার হবে।

দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে ঢাবিতে বিক্ষোভ

দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে ঢাবিতে বিক্ষোভ

Post Image

ঢাবি প্রতিনিধি:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে সকল প্রকার দলীয় ছাত্র-শিক্ষক,কর্মচারী-কর্মকর্তা রাজনীতি নিষিদ্ধ এবং অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।



মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর ) বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে থেকে শুরু হয় এ বিক্ষোভ কর্মসূচি। এসময় শিক্ষার্থীদের "অপরাজনীতির ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না", "রাজনীতির কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও" ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

এদিকে (২২) সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। শিক্ষার্থীদের দাবি যতদিন রাজনীতি নিষিদ্ধ না হয় ততদিন তারা ক্লাসে ফিরবো না। রাজনীতি বন্ধ না হলে এই আন্দোলন চলমান থাকবে। ছাত্ররাজনীতি থাকবে কি থাকবে না এ বিষয়ে খোলাসা করে কিছুই বলেননি উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও নাহিদ ইসলাম।এর আগে সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ তার ফেসবুক আইডিতে লিখেন "ক্যাম্পাসে দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে সে বিষয়ে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি"

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম বলেন "রাজনীতি থাকলে আমাদের মতো যারা সাইন্স ফ্যাকাল্টি তে আছি তাদের পড়াশোনা হবে না । ছাত্রলীগের রাজনীতি থাকাকালীন আমাদের সকাল ১০ টায় প্রোগ্রামে নিয়ে যেত একদম বিকেল পযন্ত প্রোগ্রাম করতে হতো। এমনকি ক্লাস থাকলেও আমাদের জোর করে প্রোগ্রামে নিয়ে যেত ছাত্রলীগ। আমরা আর রাজনীতি দেখতে চাইনা এই ক্যাম্পাসে" ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী বাইজিদ বলেন" রাজনীতি না থাকলে গত( ১৫)জুলাই ছাত্রলীগ টোকাই দ্বারা আমাদের ভাইবোনদের রক্তাক্ত হতে হতো না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি হবে ডাকসু নির্ভর। যারা আমাদের ক্যাম্পাসে রাজনীতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের কালো হাত ভেঙে দিবে" ।

উল্লেখ্য,গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে মরিয়া হয়ে ওঠে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।বৈষম্য বিরোধী ছাত্রআন্দোলনের ৯ দফা দাবির মধ্যে একটি ছিল ক্যাম্পাসে দলীয় রাজীনীতি নিষিদ্ধ করা। সরকার পতনের এক মাস পার হলেও রাজনীতি থাকবে কি থাকবে না এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।

ঢাবিতে রাসুলের জন্মদিন উপলক্ষে মাওলিদ মিছিল 

ঢাবিতে রাসুলের জন্মদিন উপলক্ষে মাওলিদ মিছিল 

Post Image

ঢাবি প্রতিনিধি: বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাঃ এর জন্মদিন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে মাওলিদ মিছিল বের করে ইনকিলাব মঞ্চ।

আজ হিজরি সনের রবিউল আওয়াল মাসের বারো তারিখ, এই দিনেই বিশ্বনবী পৃথিবীতে আগমন করেন।

নবীজির আগমনের খুশিতে নাতে রাসুলের মূর্ছনায়ঢাবিতে মাওলিদ মিছিল পালন করা হয়।  মিছিলে অংশগ্রহনকারীরা নবীজির শানে বিভিন্ন নাত পরিবেশন করেন। তাদের" ওই নামের সুর ধরিয়া, পাখি যায় গান করিয়া; ওই নামে আকুল হয়ে, ফুল ফোটে সোনার বরণী", "এলো ধরায় ধরা দিতে সে নবী, ব্যথিত মানবের ধ্যানের ছবি"," সারা দুনিয়ার হেরেমের পর্দা খুলে খুলে যায়, সে যে আমার কামলীওয়ালা,কামলিওয়ালা " ইত্যাদি নাত পরিবেশন ও প্লেকার্ড লিখে প্রদর্শন করতে দেখা যায়। মিছিলটি রাজু ভাস্কর্য থেকে কলাভবন, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মধুর ক্যান্টিন, হলপাড়া, নীলক্ষেত মোড় ও শাহবাগ হয়ে টিএসসি এসে শেষ হয়। 

ফের হিন্দু জাগরণ মঞ্চের শাহবাগ অবরোধ

ফের হিন্দু জাগরণ মঞ্চের শাহবাগ অবরোধ

Post Image

ঢাবি প্রতিনিধি: সনাতনীদের উপাসনালয় ও বাড়িঘরে হামলার অভিযোগ এনে এবং পূর্বের ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে ফের শাহবাগ অবরোধ করেছে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ।

এতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক শাহবাগে যান চলাচলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অবরোধ করে তারা। সেখানে যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সেজন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এসময় অবরোধকারীরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে অনতিবিলম্বে ৮ দফা দাবি বাস্তবায়ন করা, ৫ই আগষ্ট থেকে ২০ই আগষ্ট পর্যন্ত বিভিন্ন হামলার সুষ্ঠু বিচার করা, প্রয়োজনে এর জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা, এবং ঠাকুরগাঁও, চট্টগ্রাম সহ সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার বিচার ও আসন্ন দুর্গাপূজায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রদান করার দাবি জানান । তাদের দাবি, যত দিন যাচ্ছে একটি মহল সংখ্যালঘুদের উপর সুপরিকল্পিত ভাবে আক্রমণ করছে। খুলনার উৎসব মন্ডলের উপর আক্রমণ, চট্টগ্রামে গনেশ প্রতিমার আক্রমণ, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, নীলফামারী, ময়মনসিংহ এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। গতকাল ১২ই সেপ্টেম্বর দুপুর ২ ঘটিকায় রাজধানীর সুত্রাপুর হৃষীকেশ দাস রোডে একটি মন্দির ও বাড়িতে হামলা হয় বলে জানান তারা। পিরোজপুর থেকে আন্দোলনে আসা নির্জন মন্ডল বলেন, "সনাতনীরা সবসময় এবং সব সরকারের আমলেই নির্যাতিত। আওয়ামী লীগের সময় নির্যাতিত হয়েছি এখনো হচ্ছি। কয়েকদিন আগে যখন আন্দোলন করেছিলাম অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমাদের আশ্বস্ত করলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেননি" উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর সংখ্যালঘুদের উপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে দেশব্যপী বিক্ষোভ করে সংখ্যালঘুরা। এর প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিকট ৮ দফা দাবি পেশ করে সংখ্যালঘু অধিকার আন্দোলন। দাবিগুলোর হলো:- ১.সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচারের জন্য বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দোষীদের দ্রুততম সময়ে উপযুক্ত শাস্তি প্রদান, ক্ষতিগ্রস্তদের যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। ২. "সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন" প্রণয়ন। ৩. "সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়" গঠন করা। ৪. হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে "হিন্দু ফাউন্ডেশন" এ উন্নীত করতে হবে। পাশাপাশি বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকেও ফাউন্ডেশনে উন্নীত করতে হবে। ৫. "দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ আইন" প্রণয়ন এবং "অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন" যথাযথ বাস্তবায়ন করা। ৬. সরকারি/ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের জন্য উপাসনালয় নির্মাণ এবং প্রতিটি হোস্টেলে প্রার্থনাকক্ষ বরাদ্দ। ৭. "সংস্কৃত ও পালি শিক্ষা বোর্ড" আধুনিকায়ন। ৮. শারদীয় দুর্গাপূজায় ৫ দিন ছুটি দিতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রধান প্রধান ধর্মীয় উৎসবে প্রয়োজনীয় ছুটি প্রদান করতে হবে।