ব্যাংকের ভিতর থেকে প্রবাসী নারীর টাকা ছিনতাই

ব্যাংকের ভিতর থেকে প্রবাসী নারীর টাকা ছিনতাই

Post Image

বরগুনা জেলা প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলীতে সালমা আক্তার নামে এক প্রবাসী নারীর ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা ২৬ হাজার টাকা ব্যাংকের ভিতর থেকেই ছিনতাই হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে তালতলী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সালমা আক্তার। এর আগে গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে তালতলী অগ্রণী ব্যাংক শাখায় এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী সালমা আক্তার উপজেলার ফকিরহাট এলাকার বাছির পহলানের স্ত্রী ও সৌদি প্রবাসী।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলার শহরের তালতলী অগ্রণী ব্যাংক শাখা থেকে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন সালমা আক্তার। এ সময় পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তি তার টাকাগুলো খুচরা করার কথা বলে। এতে তিনি রাজি হয়নি। পরে হাত থেকে জোড় পূর্বক টাকা নিয়ে যায়। এসময় কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই ৫০ হাজার টাকা থেকে ২৬ হাজার টাকা নিয়ে সটকে পড়েন।

এবিষয়ে ভুক্তভোগী সালমা আক্তার বলেন, আমি টাকা উত্তোলন করলাম, তখনই ওই ব্যক্তি টাকা খুচরা করার কথা বলে। এতে আমি রাজি হয়নি। পরে আমার হাত থেকে জোরপূর্বক টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়। আমি সাথে সাথে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

এবিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের তালতলী শাখার ম্যানেজার মো. আল-আমিন বলেন, সালমা আক্তার ব্যাংকে ৫০ হাজার টাকার চেক নিয়ে আসছে। ব্যাংক তাকে নিয়ম পদ্ধতি অনুসরণ করে টাকা পরিশোধ করেছে। পরে সে নিয়ে বাহিরে চলে গেছে। এ ঘটনার সাথে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কোন সম্পৃক্ততা নেই।

ব্যাংকে সিসি ক্যামেরা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, গতকাল থেকে আমাদের সিসি ক্যামেরা নষ্ট রয়েছে।

এ বিষয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম খান বলেন, এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের চাঁদাবাজি ও হত্যার হুমকিতে ২০ দিন ধরে অনুপস্থিত পবিপ্রবির চিকিৎসক

স্থানীয়দের চাঁদাবাজি ও হত্যার হুমকিতে ২০ দিন ধরে অনুপস্থিত পবিপ্রবির চিকিৎসক


ডা. এটিএম নাসির উদ্দিন

পবিপ্রবি প্রতিনিধি:


চাঁদাবাজি ও হত্যার হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতার কারণে ২০ দিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার এটিএম নাসির উদ্দিন। এতে করে কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথকেয়ার সেন্টারের সেবা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা নিতে পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি।



চাঁদাবাজি ও হত্যার হুমকির বিষয়ে ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী চিকিৎসক ডা. এটিএম নাসির উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথকেয়ার সেন্টারে ডিউটিরত অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসকের রুমে রোগী দেখার সময় রোগী বের করে দিয়ে তার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করে স্থানীয় মো: সাইফুল ইসলাম মৃধা, মো: মাসুদ মৃধা, মো: জসীম উদ্দীন (কাস্টম জসিম) ও মো: জসিম মিয়া। এ সময় চক্রটি ডা. এটিএম নাসির উদ্দিনকে রুমের দরজা আটকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়ার নির্দেশ দেন বলে অভিযোগে বলা হয়। এমনকি টাকা দিতে না পারলে চাকরি ছেড়ে দিয়ে ক্যাম্পাসে আসতে নিষেধ করে এ চক্রটি। উল্লেখ্য, এ চক্রটি স্থানীয় রাজনীতিতে বেশ সক্রিয় বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করে।


পরবর্তীতে এ ঘটনা উল্লেখ করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পবিপ্রবির রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অনুমতি চান ডা. নাসির। কিন্ত রেজিস্ট্রারের কাছে আইনগত সহায়তা চাওয়ার পর থেকে অভিযুক্তরা নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি পটুয়াখালী ক্যান্টনমেন্ট জিওসির কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান। তবে এ ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 



তবে বিএনপির শাসনামলে বিএনপির এক নেতার আত্মীয় পরিচয়ে চাকুরিতে যোগদান করা ডা. নাসিরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন অভিযুক্তরা। তাছাড়া বিএনপি থেকে যেয়ে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদ বাগিয়ে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 



এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার এটিএম নাসির উদ্দিন প্রতিবেদককে বলেন, “আমি দীর্ঘ ২৩ বছর যাবত বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছি। এমন ঘটনায় আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানোর পর তারা ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বাস দেন। তবে আইনি সহায়তা নিতে অনুমতি চাওয়ার পর থেকে চক্রটি আরো ক্ষিপ্ত হয়ে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।”



অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে অভিযুক্ত মো: মাসুদ মৃধা জানান, “আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয়, টিএসসিসহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রায়ই যাতায়াত করি। তবে ডা. নাসিরের সাথে আমার কোন ধরনের কথা বা দেখা হয়নি।”


এ সময় তিনি ডা. নাসিরের সম্বন্ধে অভিযোগ করে বলেন, “ডা. নাসিরকে বিএনপির আমলে আমি নিজে চাকুরি দেই, কিন্ত ক্ষমতার পালাবদলের সাথে সাথে ডা. নাসির বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা বনে যান। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথকেয়ারে আধিপত্য বিস্তার করে একা নিয়ন্ত্রণ করতে থাকেন।”



অভিযোগ অস্বীকার করে অপর অভিযুক্ত মো: সাইফুল মৃধা সাংবাদিকদের বলেন, “বর্তমানে আমি দল গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছি। এ সময় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক এ ধরণের অভিযোগ আসতে পারে। তবে আমার এ রকম কোন কিছুতে সংশ্লিষ্টতা নেই।”



বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান জানান, “এ বিষয়ে ভুক্তভোগী চিকিৎসক আমার সাথে যোগাযোগ করেছিলেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করার পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের  রেজিস্ট্রার(অ.দা.) অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, “এ ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বোর্ডকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সেটি স্থানীয় থানায় আইনি প্রক্রিয়ার জন্য পাঠানো হবে।”


তালতলীতে সংবাদ প্রকাশের জেরে ৫ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা

তালতলীতে সংবাদ প্রকাশের জেরে ৫ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা



বরগুনা জেলা প্রতিনিধি:

বরগুনার তালতলীতে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যকে বিবস্ত্র করে মারধরের সংবাদ প্রকাশের জেরে স্থানীয় ৫ সাংবাদিকসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। এই মিথ্যা মামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ছে বিভিন্ন সাংবাদিক সমাজ।

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টম্বর) দুপুরে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন শাহদাত হোসেন। আদালতের বিচারক আরিফুর রহমান মামলাটি আমলে নিয়ে বরগুনা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।


মামলার আসামিরা হলেন- তালতলী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. খাইরুল ইসলাম, দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার সাংবাদিক মোস্তাফিজ, এশিয়ান টিভির সাংবাদিক মো জলিল আহমেদ, আজকের দর্পণ পত্রিকার সাংবাদিক হাফিজুর রহমান, মানজমিন পত্রিকার সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান ও বিবস্ত্র করে মারধরের শিকার ইউপি সদস্য জামাল খান ও তার চাচাতো ভাই ফেরদাউস। হামলাকারী শাহদাতের কাছ থেকে একটি মোবাইল ও মারধর করে ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করার অভিযোগ করেছে।


জানা যায়, গত শনিবার ৩১ আগস্ট  উপজেলার নিশান বাড়িয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জামাল খানের বাড়ির সামনে নিদ্রা স্লুইজঘাট খালে একটি চোরাই ইঞ্জিন চালিত স্টিলবডি ট্রলার নোঙর করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। বিষয়টি স্থানীয়রা ইউপি সদস্য জামাল খানকে জানালে তিনি  উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানান। পরে ইঞ্জিন চালিত স্টিলবডি ট্রলারটি ইউপি সদস্যর জিম্মায় রাখার নির্দেশ দেন। এ খবর পেয়ে রাত ১০ টার দিকে চোরাই ট্রলারটি অনৈতিকভাবে নেওয়ার জন্য টাকার প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হলে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ইউপি সদস্য বাধা দিলে আবুল কালাম, মিজানুর রহমান, বশির, সাংবাদিক নাইম ও শাহাদাতসহ এক দল সন্ত্রাসী এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে জখম করেন জামাল খানকে। মারধরের একপর্যায়ে ইউপি সদস্যকে বিবস্ত্র করে ভিডিও করা হয়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায় হামলাকারীরা। এতে জীবনের ভয়ে চিকিৎসা না নিয়ে বাড়িতে থাকলে পরের দিন দুপুরের দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত আনোয়ার তুমপা ইউপি সদস্য জামাল খানকে উদ্ধার করে হাসপাতাল পাঠায়। এ ঘটনায় ঐ ইউপি সদস্য বাদি হয়ে ১২ জন হামলাকারীর নাম উল্লেখ করে আদালতে একটি মামলা করেন। এ ঘটনার খবর পেয়ে ১ আগষ্ট দুপুর ১২ টার দিকে ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে যায় তালতলী প্রেসক্লাবের সদস্যরা। পরে এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এ সংবাদ প্রকাশের জের ধরে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে ৫ সংবাদিক ও ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনে মামলা করেছেন শাহদাত হোসেন নামের এক হামলাকারী।

তালতলী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও যুগান্তরের সাংবাদিক মু আ. মোতালিব বলেন, এই মারধরের ঘটনায় আমিও সংবাদ সংগ্রহে গিয়েছিলাম ও সংবাদ প্রকাশ করেছি। এখানে সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন।   তাছাড়া তারা ঘটনাস্থলেই ছিলো না। তাদের নামে যে মামলা করা হয়েছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এটা দুঃখজনক। অবিলম্বে তিনি মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানান।

এ বিষয় বরগুনা বরগুনা গোয়েন্দা শাখা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মো.বশির আলম বলেন, এখনো মামলার আদেশ আমরা হাতে পায়নি। আদেশ হাতে পেলে সঠিকভাবে তদন্ত করে সুষ্ঠু প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে।

ইউপি সদস্যকে বিবস্ত্র করে মারধর, সাংবাদিকসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ইউপি সদস্যকে বিবস্ত্র করে মারধর, সাংবাদিকসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা


বরগুনা জেলা প্রতিনিধি:

বরগুনার তালতলীতে ইউপি সদস্য মো. জামাল খানকে বিবস্ত্র করে মারধরের ঘটনায় দুই সাংবাদিকসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে।


বুধবার (০৪ সেপ্টেম্বর) সকালে আমতলী উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইউপি সদস্যর জামাল খান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। পরে আদালতে বিচারক মো. আরিফুর রহমান মামলাটি আমলে নিয়ে তালতলী উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন।


আসামিরা হলেন- তালতলী উপজেলার আবুল কালাম, মিজানুর ওরফে টাচ মিজান, বশির উদ্দিন, নাঈম ইসলাম (সাংবাদিক), আল-আমিন, শাহাদাৎ হোসেন (সাংবাদিক), জাফর দফাদার, খলিল, মাসুদ, বেল্লাল, ইব্রাহিমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জন। 


মামলা সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার ৩১ আগস্ট  উপজেলার নিশান বাড়িয়া ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জামাল খানের বাড়ির সামনে নিদ্রা স্লুইজঘাট খালে একটি চোরাই ইঞ্জিন চালিত স্টিলবডি ট্রলার নোঙর করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। বিষয়টি স্থানীয়রা ইউপি সদস্য জামাল খানকে জানালে তিনি  উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানান। পরে ইঞ্জিন চালিত স্টিলবডি ট্রলারটি ইউপি সদস্যর জিম্মায় রাখার নির্দেশ দেন। এ খবর পেয়ে আসামিরা রাত ১০ টার দিকে চোরাই ইঞ্জিন চালিত স্টিলবডি ট্রলারটি অনৈতিকভাবে নেওয়ার জন্য টাকার প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হলে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় আবুল কালাম, মিজানুর রহমান, বশির, সাংবাদিক নাইম ও শাহাদাতসহ তারা বগি, দা, লোহার রড দিয়ে খুনের উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি মারধর করেন ইউপি সদস্যকে।  এতে কপালের হাড়ভেঙে গুরুতর জখম হয়। এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা কাটা-ছেঁড়া রক্তাত জখম হয়। মারধরের একপর্যায়ে ইউপি সদস্যকে বিবস্ত্র করে ভিডিও করা হয়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায় হামলাকারীরা। এতে জীবনের ভয়ে চিকিৎসা না নিয়ে বাড়িতে থাকলে দুপুরের দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত আনোয়ার তুমপা ইউপি সদস্য জামাল খানকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়।


এ বিষয়ে মামলার বাদী জামাল খান বলেন, আমি যাতে মামলা না করি সেজন্য আমাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে আসছে আসামীরা। তবুও আমি সঠিক বিচারের আশায় মামলা করেছি। এখন সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। তিনি আরও বলেন, আমার বিবস্ত্র ভিডিও দেখিয়ে হুমকি দিচ্ছে ও টাকা চেয়েছে।  যদি মামলা না ছেড়ে দেই তাহলে আমার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেবে বলে হুমকি দিয়েছে আসামীরা। আমি প্রাণের ভয়ে আছি।


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিফাত আনোয়ার তুম্পা, বলেন আমি ছুটিতে আছি। মামলার আদেশ পেলে তদন্ত-পূর্বক প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

খানসামায় স্কুলছাত্রীর শ্লীলতাহানি, যুবক কারাগারে

খানসামায় স্কুলছাত্রীর শ্লীলতাহানি, যুবক কারাগারে


অভিযুক্ত মো. শাকিল ইসলাম

মাসুদ রানা,খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের খানসামায় স্কুলছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক যুবককে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আশিক আহমেদ এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

আটককৃত মো. শাকিল ইসলাম (২২) উপজেলার দুহশুহ গ্রামের মো. ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে। নির্যাতিত ছাত্রী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে আসার সময় রাস্তার পথিমধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। পরে, ওই ছাত্রী চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসে। উৎসুক জনতা তাকে আঘাত করে। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত হয়ে ঘটনাস্থলেই তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হলে, চিকিৎসা শেষে থানা পুলিশের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আশিক আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে ওই যুবককে আটক করা হয়। পরে নারীর প্রতি শ্লীলতাহানি উদঘাটিত হওয়ায় ১৮৬০ এর ৫০৯ ধারায় ঘটনাস্থলেই তাকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাহারুল ইসলাম জানান, এক স্কুলছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক যুবককে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে তাকে দিনাজপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

 

সিএজি অফিস ও অধীনস্থ কর্মচারীদের ডিপার্টমেন্ট বৈষম্যের বিরুদ্ধে সমাবেশ

সিএজি অফিস ও অধীনস্থ কর্মচারীদের ডিপার্টমেন্ট বৈষম্যের বিরুদ্ধে সমাবেশ

                    ছবি: বিক্ষোভ ও সমাবেশ 

বুলেটিন বার্তা ডেস্ক:


রাজধানীর কাকরাইলস্থ বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) কার্যালয়ের সামনে কর্মচারীরা ডিপার্টমেন্টাল বৈষম্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন। সোমবার (২ সেপ্টেম্বর)   তারা এ বৈষম্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন। কর্মচারীরা অভিযোগ করছেন যে, উচ্চ আদালতের একাধিক রায় থাকা সত্ত্বেও তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে ১০ম গ্রেড এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।


২০১৩, ২০১৫ এবং ২০১৮ সালে হাইকোর্ট এবং আপিল বিভাগ অডিটর পদে কর্মরতদের ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার পক্ষে রায় প্রদান করে। যদিও অর্থমন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে, অজানা কারণে শুধুমাত্র একটি মামলার রিটকারী ৬১ জনকে ১০ম গ্রেড প্রদান করা হয়েছে। অন্যান্য অডিটরদের দাবি উপেক্ষা করে বাকি সবাইকে পূর্বের গ্রেডে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে আরও মামলা হলে আদালত অডিটর পদে সকলের জন্য ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। 


আজকের সমাবেশে উপস্থিত কর্মচারীরা দাবি করেন যে,  অডিটর পদে দুই ধরনের গ্রেড বিদ্যমান থাকার ফলে বেতন বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে। উচ্চ আদালতের রায় এবং বর্তমান আইন উপদেষ্টার ইতিবাচক মতামতের ভিত্তিতে, তারা অডিটর পদকে ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখ থেকে ১০ম গ্রেডে বাস্তবায়নের দাবি করেন। 


সমাবেশে উপস্থিত অডিটররা সিএজি কার্যালয়ের কাছে দ্রুত এই গ্রেড বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। সারা দেশের অডিটররাও এ সমাবেশের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এবং তাদের দাবি পূরণের জন্য একযোগে আন্দোলনের ঘোষণা দেন। তাদের মতে, ১০ম গ্রেড কোনো নতুন দাবি নয়, বরং এটি তাদের ন্যায্য অধিকার।


উল্লেখ্য, অর্থমন্ত্রণালয়ের ৩ নভেম্বর ২০১৩ তারিখের ৩২৮ স্মারকে জারি করা পত্রে জুনিয়র অডিটরকে ১৪ গ্রেড, অডিটরকে ১০ম গ্রেড, সুপারকে ৯ম গ্রেড এবং নিরীক্ষা ও হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তাকে ৭ম গ্রেডে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছিল। তবে এ আদেশ এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।