মো. জুবায়ের ইসলাম, তিতুমীর কলেজ: ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচার শাসক হাসিনার "রাজাকার" বলে সম্বোধন করা শব্দ কে কেন্দ্র করে ১৫ জুলাই শাহবাগে আন্দোলন মিছিল হয়।
কিন্তু দেশ স্বাধীনের পর ছাত্র জনতার চেতনার মূল "রাজাকার" শব্দটি যেনো বিকৃত না হয় , সে জন্য সরকারি তিতুমীর কলেজে আবারও মুখরিত হয় ঐতিহাসিক স্লোগানে, 'তুমি কে? আমি কে? রাজা'কার রাজা'কার! কে বলেছে? কে বলেছে? স্বৈরাচার স্বৈরাচার!'
সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) তিতুমীর কলেজের মামুন চত্বরে দুপুর ১২ টা ৩০ মিনিটে জড়ো সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী নিরব হাসান সুজনের চেতনা দীপ্ত স্লোগানে সবাই জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীদের মিছিল কলেজ প্রাঙ্গণের চারপাশ এবং কলেজের সম্মুখে মেইন রাস্তা পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়।
তিতুমীর কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর সানি বলেন, আমাদের স্লোগানে রাজাকার শব্দটি শুনে মানুষ বলতে পারে আমরা কোনো দলীয় কোনো লোক কিনা। কিন্তু এখানে আমি বলতে চাই ইংরেজি সাহিত্য অনুযায়ী আমরা রাজাকার শব্দটি "এলিগোরি" হিসেবে ব্যবহার করেছি।
ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। কিন্তু এখনো দেশের মানুষের বিজয়কে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র চলছে। ফ্যাসিষ্ট সরকার শেখ হাসিনার দোসররা এখনো বিভিন্ন ভাবে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে ছাত্র জনতার বিজয়কে কেড়ে নিতে চাচ্ছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা মিছিলের মধ্য দিয়ে প্রতিবাদ জানায় এই দোসরদের প্রতি।
ফ্যাসিষ্টবাদী দোসররা ভিন্ন রূপে, ভিন্ন দলের মাধ্যমে তিতুমীর কলেজে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। এর প্রতিবাদে এক শিক্ষার্থী বলেন, কিছু ব্যক্তি কলেজ প্রাঙ্গণে নিজেদের রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করছে। আমরা সকল সাধারণ শিক্ষার্থী ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের প্রতিহত করবো।
তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী নায়েক নূর বলেন, রাজাকার শব্দটি আগে ঘৃণিত হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু স্বৈরাচার সরকার এর বিরুদ্ধে গিয়ে আমরা এই নাম যোদ্ধা হিসেবে ব্যবহার করেছি। এই রাজাকার শব্দটি ব্যবহার করে আমরা স্বৈরাচার নামে দখলদারের বিরুদ্ধে আন্দলোন করেছি। আমরা চাই না স্বৈরাচারের নামে আর কোনো দখলদার আমাদের উপর প্রভাব ফেলুক। আপনারা জানেন ছাত্রলীগ থাকাকালীন তিতুমীর কলেজের ১৮ টি ক্লাব সহ সকল প্রকার সংগঠনগুলোর উপর নির্যাতন চালিয়ে গেছে। আমরা সকল ক্লাব গুলো বিগত ৫-১০ বছর ধরে তাদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছি। এখন নতুন করে কিছু রাজনৈতিক দল আমাদের উপর কুনজর দিয়েছে। ক্লাব গুলোতে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছে বিভিন্ন দল। আগে ছাত্রলীগ আমাদের জামাত শিবির বলে ট্যাগ দিতো, এখন অন্যান্য দল গুলো ছাত্রলীগ বলে ট্যাগ দেয়। তবে আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, আমাদের ক্লাব গুলো ছাত্রলীগ মুক্ত। তাদের অস্তিত্ব আমরা বিলীন করে দিয়েছি। এরপরও যদি কেও আমাদের ১৮ ক্লাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে, আমরা তাদের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলবো।
তিতুমীর কলেজের আরেক শিক্ষার্থী ঐতিহাসিক স্লোগানের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, খুনি হাসিনার এই রাজাকার শব্দকে আমরা ট্যাগ হিসেবে লাগিয়ে আমরা তাকে দেশ হতে বিতাড়িত করেছি। কিন্তু এখন আমাদের ছাত্র আন্দোলন এর মূল চেতনার এই স্লোগান কে স্বৈরাচারের দোসররা বিকৃত করার চেষ্টা করছে। যারা এই অপচেষ্টা চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা আবারও রুখে দাঁড়াবো। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যাতে আমাদের এই ইতিহাস ভুলে না যায়, তাই রক্ত দিয়ে হলেও আমরা এই চেতনা ধরে রাখবো।
0 coment rios: