মাসুদ রানা,খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: মোছা. মমতাজ বেগম একজন বিধবা মহিলা।
এই বিধবা মহিলার স্বামীর ক্রয়কৃত সম্পত্তিতে জোরপূর্বক জায়গা দখল করে স্থাপনা করেছেন মর্মে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের জিয়া সেতুর পূর্বপাড়ে বাইপাস সড়কে। গত সোমবার (৫ আগস্ট) আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গত বুধবার (৬ আগস্ট) রাত ৯ থেকে বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকাল ৬টা পর্যন্ত এ জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করে। অভিযুক্ত সিরাজুল ওই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য।
ভূমিদস্যুদের কবল হতে নিজ ভোগদখলীয় জমি উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দিনাজপুর ক্যাম্প ও খানসামা থানায় লিখিত একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মমতাজ বেগম। এরপর গত শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) জমি ছেড়ে দিবে মর্মে আপোষনামায় স্বাক্ষর করেন সাবেক ইউপি সদস্য। আপোষনামায় স্বাক্ষরের পরেও তিনি জমি ছেড়ে দিচ্ছেন না মর্মে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী বিধবা মহিলার পরিবার।
আপোষনামা সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং থানা পুলিশ কর্তৃক যৌথ তদন্তে প্রতীয়মান হয় যে, ভুল বশতঃ বিধবার জমি জবর দখল করেছেন মর্মে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়। যেহেতু সাবেক মেম্বার ও তার পরিবার ভুল বশতঃ অন্য কোন প্ররোচনায় জমি দখল করেছেন সেহেতু মমতাজ বেগমের জমি আগামী ২ দিনের মধ্যে অর্থাৎ আগামী ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর দখলকৃত সম্পত্তি দীর্ঘদিন দখলে থাকা মমতাজ বেগমকে বুঝিয়ে দিলাম। অদ্য হইতে বর্ণিত জমি মমতাজ বেগমের পরিবারের দখলে থাকবে তবে পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতে সাবেক ইউপি সদস্যর পক্ষে রায় দেয় তাহলে মমতাজ বেগমকে জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য থাকিবে। দু পক্ষই গনমান্য ব্যক্তিবর্গদের এবং স্থানীয় ইউপি মেম্বারের উপস্থাপিতিতে সজ্ঞানে স্বইচ্ছায় উক্ত আপোষনামায় স্বাক্ষর করেন। এটা সাবেক ইউপি সদস্যর ভুল বুঝাবুঝির ফলে হয়েছে বলে জানা যায়। তারা উভয় পক্ষ আপোষ মীমাংসা করে নেন।
ভুক্তভোগী মোছা. মমতাজ বেগম বলেন, আমার মরহুম স্বামী বিষ্ণুপুর মৌজায় গত ২০০৩ সালের জানুয়ারি মাসের ৪ তারিখে ৫৩২ সাবেক দাগ, ২১৩ হাল দাগে ২৬ শতাংশ জমি ক্রয় করে। যার দলিল নং ১৭। এরপর তিনি নিজ নামে বাংলাদেশ চলমান মাঠ জরিপে খতিয়ানভুক্ত হন। যার খতিয়ান নং ২০৯ এবং নিজ নামে খারিজ করেন। যার খারিজ মোকদ্দমা নং ২২৮/২০১৩-১৪। এছাড়া স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ১৪৩১ বাংলা সন পর্যন্ত ওই জমির ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করেছি। তিনি আপোষনামায় স্বাক্ষরের পরেও জমি ছেড়ে দিচ্ছেন না। আমার মনে হচ্ছে সে সময় তিনি তাৎক্ষণিক নিজেকে ঠিক রাখার জন্য আপোষনামায় স্বাক্ষর করেন। আমি এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।
এ বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলামকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল দিলেও ফোনটি রিসিভ হয়নি।
0 coment rios: