ফয়সাল,নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) দলীয় রাজনীতি বন্ধ করার দাবি উঠলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
একদল শিক্ষার্থী দলীয় রাজনীতি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন, অন্যদিকে কেউ কেউ দাবি করছেন, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা সমাধান নয়, বরং এটিকে সংস্কার করে সুস্থ ধারার রাজনীতির মাধ্যমে নেতৃত্ব গঠনের প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি, শিক্ষকরাও এ বিষয়ে তাদের মতামত দিয়েছেন।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তারানা নূপুর বলেন, "জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জামায়াত বা বামপন্থী কোনো ছাত্র থাকবে না। ছাত্রদের পরিচয় হবে শুধু ছাত্র। শিক্ষকদের পরিচয় হবে কেবল শিক্ষক। ফ্যাসিজমকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হবে না এই ক্যাম্পাসে।"
একাউন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জুবায়েল আহমেদ নবো নিযুক্ত ভিসিকে অনুরোধ করে বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে যে দাবিগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে সব দাবির এক দাবি আগে ১ম সিন্ডিকেট ডেকে সকল ধরনের দলীয় রাজনীতি বন্ধ করুন। তারপর সকল শিক্ষার্থী শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়ে ক্যাম্পাস নতুন রুপে সাজানো যাবে।
আজিজুল ইসলাম আজিজ(১৮-১৯ সেশন) বলেন, "নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতির নামে আর কোনো অপকর্ম যেন না হয়। দ্রুত সিন্ডিকেট মিটিং ডেকে দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি বন্ধের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আশা করি, উপাচার্য স্যার দ্রুত সিন্ডিকেটে এর অনুমোদন দেবেন। নতুবা সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে থাকবে না।"
এছাড়া ছাত্ররাজনীতি থাকার প্রসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থী মতামত দেন । এই বিষয়ে শাহজালাল আহমেদ জনি(২০-২১) ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বলেন, "ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিও এক ধরনের ছাত্ররাজনীতি। রাজনীতি মানেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা, সংস্কৃতি, সমাজসেবা ইত্যাদিতে অংশ নেওয়ার একটি মাধ্যম। আদর্শ রাজনীতি চর্চার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি হয়, যা জাতির জন্য অপরিহার্য।"
পাশাপাশি গত ১৫ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের বিষয়ে হিমেল আহমেদ(০৭-০৮ সেশন) বলেন, "ক্যাম্পাসে গত ১৫ বছরে যারা রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের রেখে রাজনীতি বন্ধ করা কি আদৌ সম্ভব? যদি সত্যিই রাজনীতি বন্ধ করতে হয়, তবে সবার নিয়োগ বাতিল করে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সাজাতে হবে।"
উল্লেখ্য গত ১৩ আগষ্ট নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এবং ১৫ আগষ্ট কর্মকর্তা পরিষদ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সকল ধরনের দলীয় রাজনীতি বন্ধের ঘোষণা দেয় ।
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস রাজনীতি বর্তমানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কিছু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক মনে করেন, রাজনীতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলী বৃদ্ধি করে, যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, কিছু শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক রাজনীতির নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছেন, যেমন সংঘাত, বিভাজন এবং একাডেমিক পরিবেশের অবনতি। এই প্রতিক্রিয়াগুলি একটি সুস্থ ও উন্নত ক্যাম্পাস পরিবেশ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সংলাপ ও সহযোগিতার আহ্বান করছে। ক্যাম্পাস রাজনীতির ইতিবাচক এবং নেতিবাচক উভয় দিক বিবেচনায় নিয়ে একটি কার্যকর নীতি গ্রহণ করা জরুরি।
0 coment rios: