গবিতে ফিনিক্স -১৪ এর বার্ষিক চড়ুইভাতি আয়োজিত

Post Image

ফারহান হোসেন,গবি প্রতিনিধি: ফেলে আসা শৈশবের এক অমূল্য স্মৃতি হয়ে আজো হৃদয়ের কোন এক কোনে অবস্থান করছে ‘চড়ুইভাতি’ নামক একটি শব্দ। একজন শিশু যখন তার শৈশবের স্কুল কলেজের পাট চুকিয়ে কৈশরে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পা দেয় তখন ধরতে গেলে তার জীবন থেকে মানসিক সুখ শান্তি যেন রকেটের গতি তে বিদায় নেয়।

সারাদিন ক্লাস,ল্যাব,এসাইনমেন্ট শেষে যখন একজন শিক্ষার্থী তার হলের গিঞ্জিরুম টায় ফিরে আসে তখন তার হৃদয়টা বলে উঠে মস্তিষ্ক একটু প্রশান্তি চায়। কোথাও একটু খোলা আকাশের নিচে বন্ধু বান্ধব মিলে যদি আড্ডা দেওয়া যেত, যদি সবাই মিলে কোথাও একটু বেড়াতে যাওয়া যেত কতই না ভালো লাগত। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ত ক্লাস ফাকি দিয়ে ঘুরতে গেলে উপস্থিতির উপর নম্বর কেটে দিবে আবার কিছুদিন পর ত মিডটার্ম পরিক্ষা তবে কি ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা মাটি হয়ে যাবে?? না পরিকল্পনা কিছুতেই মাটি হতে দেয়া যাবে না আচ্ছা কেমন হয় যদি ক্যাম্পাসে একটি চড়ুইভাতি র আয়োজন করি। অতএব,যেই ভাবা সেই কাজ সহপাঠীদের সাথে শুরু হলো এ বিষয়ে আলোচনা। রাজী করানো হলে ডিপার্টমেন্টের সকল শিক্ষকদের। ধার্য করা হলো নির্ধারিত চাঁদা। অবশেষে একটি দিন ঠিক করা হলো চড়ুইভাতির জন্য। সবাই কে বুঝিয়ে দেওয়া হলো নিজ নিজ দায়িত্ব। কিছু শিক্ষার্থীদের দেওয়া হলো রান্নার দায়িত্ব কয়েকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হলো স্পট ডেকোরেশনের। অবশেষে চলে এলো সেই কাঙ্খিত দিন। শিক্ষক শিক্ষার্থী সকলের মাঝেই ছিল একটি উৎসবের আমেজ। ওইদিন ছেলেরা পড়েছিল পাঞ্জাবি এবং মেয়েরা পড়ে এসেছিল শাড়ি। কিছুসময় পর যথারীতি শুরু হয়ে যায় রান্নার কাজ। রান্নায় পারদর্শী শিক্ষার্থীরা তাদের সুদক্ষ হাতে রান্নার কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে লাগল। অন্যদিকে চলতে থাকলো শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড। কেউ গান গাইছে কেউ বা সেই গানের তালে তালে নেচে যাচ্ছে। এমনকি শিক্ষকরাও বাদ যাননি এই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখতে। তাদের পক্ষ থেকে কয়েকজন শিক্ষক সকলের মাঝে গান ও শিক্ষার্থীদের সহযোগে নাচ পরিবেশন করে। অন্যদিকে রান্নার কাজে নিয়োজিত শিক্ষার্থী রা নিজেদের সুদক্ষ হাতে রান্নার কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকে। দুপুরে রান্না শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হলো খাওয়া দাওয়া। সকলেই ছিল ক্ষুধার্ত এবং ক্লান্ত পরিশ্রান্ত। খাওয়া শেষ করে সমাপনী অনুষ্ঠানে শিক্ষকরা সকল ছাত্রছাত্রীদের ধন্যবাদ জানান এতো সুন্দর একটি আয়োজন করার জন্য। এছাড়াও তারা প্রতিবছরই যেন এধরনের আয়োজন করা যায় তার জন্য সকল ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বিকেল নাগাদ শেষ হলো সকল আয়োজন। অতঃপর একটি সফল চড়ুই ভাতির আয়োজন সকলের অংশগ্রহণে একটি ফটোসেশনের মাধ্যমে শেষ হয়। কিছুদিন আগে এরকমই একটি চড়ুইভাতি র আয়োজন দেখা গেছে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সাইন্সেস অনুষদের ১৪ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। সহপাঠী ও বন্ধু বান্ধবদের সাথে সারাদিন হৈ হুল্লোড় করে দিনটি উদযাপন করে তারা। অনুষদের শিক্ষকরাও যোগ দেয় অনুষ্ঠানে তাদের উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের করে আরও উজ্জীবিত করে তোলে। এক বর্নাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজনের মাধ্যমে শেষ হয় ১৪ তম ব্যাচ তথা ফিনিক্স -১৪ এর বার্ষিক চড়ুইভাতি।


শেয়ার করুন

0 coment rios: