কাশফুল: শরতের সীমাহীন সৌন্দর্য

Post Image

মো.শফিউল্লাহ,নোবিপ্রবি প্রতিনিধি: 'যে দেশকে বিধাতা সাজিয়েছেন তাঁর আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে, সুচারুরুপে, বর্ণাধ্য করে সে দেশের নাম বাংলাদেশ'।

এই সৌন্দর্যের মধ্যে আছে কেবল প্রগাঢ় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমারোহ। ছয়টি ঋতুর এক আশ্চর্য লীলা নিকেতন এই বাংলাদেশ। প্রাকৃতিক নিসর্গ বাংলাদেশের অলঙ্কার হিসেবে বিবেচিত।

শরৎ ঋতুর আবির্ভাবের সাথে সাথে প্রকৃতি শোভা পায় এক অপরূপ রুপে। নীল আকাশে সাদা তুলার ন্যায় মেঘের সঙ্গে যখন কাশফুলেরা মৃদু বাতাসে দোল খায়, প্রকৃতিতে তখন শুধুই মুগ্ধতা ছড়ায়। ক্ষণস্থায়ী মৃদু হাওয়ায় সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। স্বচ্ছ নীল আকাশ বা অস্তগামী সূর্যের মৃদু আলোর বিপরীতে সাদা কাশফুল সকল শ্রেণীর মানুষের মনের মধ্যে সৃষ্টি করে দারুণ এক সুখানুভূতি!

ছবিপ্রেমীদের জন্য তৈরি হয় চমৎকার ফটোগ্রাফির সুযোগ। কাশফুলের সঙ্গে ছবি তুলতে ব্যস্ত সময় কাটাতে দেখা যায় অনেককেই। শরৎকালে কাশফুলের সীমাহীন সৌন্দর্য এর যাদুকরী ছোঁয়া প্রকৃতির চির-পরিবর্তনশীল ও মোহনীয় সৌন্দর্যের অনুস্মারক হিসেবে কাজ করে।

বর্ষ পেরিয়ে ঋতু রাণী শরৎ এসেছে আমাদের মাঝে। শরৎ ঋতুর কথা মনে এলেই, আমাদের চোখের কোণে ভেসে উঠে মৃদু বাতাসে দোল খাওয়া সাদা কাশফুল, পাল তোলা নৌকার সারি, দূর ঐ নীলচে আকাশে জমে থাকা ধূসর সাদা মেঘের ভেলার কথা। কখনো মিষ্টি রোদে আলোর খেলা আবার কখনো হঠাৎ বৃষ্টির হানা। মাঝে সাজেই দেখা যায় রৌদ্র মেঘের লুকোচুরি খেলা। কাশফুলের এই শুভ্রতার মায়ায় প্রকৃতিপ্রেমীরা বরাবরই দূর্বল।

কাশবনের সাদা চাদরের উপর সূর্য যখন অস্ত যায় প্রকৃতি মায়াবী অপরুপ সুন্দরী হয়ে ওঠে।শরতের বিকেলের এ মোহময়ী রুপ দূর করে দিতে পারে যান্ত্রিক শহরে বসবাসকারী নাগরিক মনের যন্ত্রণা। মৃদুমন্দ বাতাসে দোল খাওয়া কাশফুল আবহমান কাল ধরেই এদেশের মানুষের মনে দোলা দিলেও, আজকালকার শহুরে ব্যস্ত জীবনে কাশফুল নতুন আমেজ নিয়ে উপস্থিত হয়। ব্যস্ত জীবন থেকে এক মূহুর্তের ছুটি পেতে শহুরে লোকজন আজকাল আয়োজন করে যান কাশফুল দেখতে। যদি খানিকটা সময় নির্মল প্রকৃতির সান্নিধ্যে শহরের বিষাক্ত বাতাস থেকে মুক্তি পাওয়া যায় সেই আশায়।

ঋতু রাণীর অলংকার কাশফুল নিয়ে নোবিপ্রবির শিক্ষার্থী গুলবাহার বলেন- " কয়েক বছর আগেও ক্যাম্পাসে অনেক কাশফুল দেখা যেত। গতবছর ও কিছু কিছু জায়গায় কাশফুল সৌন্দর্য ছড়িয়েছে। কিন্তু এবার কাশফুল ছাড়াই শরৎকাল চলে যাচ্ছে। প্রকৃতিপ্রেমী হিসেবে বিষয়টা আমার কাছে কষ্টের।"

আরেক শিক্ষার্থী সায়েম এর অনুভূতি জানতে চাইলে বলেন- "কাশফুলের শুভ্রতা আমাকে বিমোহিত করে, ভালো মনের মানুষ হতে অনুপ্রাণিত করে ।কাশফুলের দিকে চেয়ে থাকলে কমে যায় মনের বেদনা ।আমার প্রিয় মানুষটির হৃদয়ের কোমলতা আমি কাশ ফুলেই খুজে পায়"!

কাশফুলের কোনো সৌরভ নেই। এটা দিয়ে মালা গাঁথা যায় না। আবার ফুলদানিতে সাজিয়ে রাখার মতো ফুলও নয় নয় এটি। খোঁপায় গোঁজার তো প্রশ্নই ওঠে না। তবু দিগন্তছোঁয়া কাশবনের মনোরম সৌন্দর্য মানুষকে আচ্ছন্ন করে রাখে। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে গ্রামে-গঞ্জে কাশফুলের আধিক্য কমে গেছে৷ যে কাশফুল শরতের আগমনী বার্তা নিয়ে আসে, দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে সেই অপার সৌন্দর্যের কাশগুচ্ছ। উঠছে গগনচুম্বী ইমারত।প্রকৃতির এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া কী উচিত নয়??


শেয়ার করুন

0 coment rios: