বশেমুরবিপ্রবির সাবেক পরিবহন প্রশাসক তাপস বালা সনাতন সংঘের টাকা বুঝে দেয়নি

Post Image

তৌফিক হোসেন, বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয় ছোট পরিসরে এবং বাজেট কমিয়ে ত্রাণ তহবিলে টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

কিন্তু ত্রাণ তহবিলে টাকা না দিতে পারার ব্যর্থতা এবং সনাতন সংঘের কেন্দ্রীয় ফান্ডিং সম্পর্কে অনুসন্ধানে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ফান্ডিংয়ের যৌথ একাউন্ট সাবেক পরিবহন প্রশাসক তাপস বালার কাছে ছিলো। উচ্চতর ডিগ্রী লাভের জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার আগে তিনি সেই ফান্ড বিশ্ববিদ্যালয় সনাতন সংঘের কাছে বুঝে দেননি, যা মন্দির সূত্রে জানা গেছে।


সনাতন সংঘের বর্তমান কমিটি জানিয়েছে, জন্মাষ্টমী বাজেট কমিয়ে ত্রাণ তহবিলে দেওয়ার ইচ্ছে ছিলো, কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক একাউন্ট বুঝে না পাওয়ার কারণে, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য না থাকার কারণে এবং দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে সনাতন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকায় কোনো বড় ফান্ডিং হয়নি এবং পূজা সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠিত হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক ও বর্তমান সনাতনী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাপস বালা যখন সনাতন সংঘের দায়িত্বে ছিলেন, তিনি স্বেচ্ছাচারী মনোভাব দেখিয়ে মন্দিরের কোনো হিসাব কাউকে দিতেন না। তার সময়ে বড় বাজেটের প্রোগ্রামে আর্থিক খরচের কোনো পরিষ্কার হিসাব পাওয়া যায়নি এবং তিনি মন্দিরের টাকা নিজেই ব্যয় করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি মন্দিরে গ্রুপিংয়ের রাজনীতি তৈরি করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে মাই ম্যান বসানো নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের এক সনাতনী শিক্ষক সম্পর্কে নিউজ করানোর মতো কাজও করেছেন বলে জানা গেছে। তার সময়ে সনাতনী শিক্ষকরা একদিকে আর তিনি একাই বিপরীত পথে চলেছেন। মন্দির নির্মাণের শুরুতে (টিনশেড, যা এখন কেন্দ্রীয় মন্দির) প্রায় ৮০-৯০ হাজার টাকা টেন্ডারের নামে প্রদান করলেও, কোন ঠিকাদারকে টাকা দেওয়া হয়েছে, তা কখনো জানানো হয়নি। সনাতন সংঘের সিনিয়রদের সামনে বিষয়টি উত্থাপন করলেও তাপস বালা সদুত্তর দিতে পারেননি এবং টাকা উদ্ধার সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন। পরিবহন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালে, ড্রাইভিং না জানলেও কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রাইভারদের থেকে গাড়ি চালানো শিখেছিলেন। একবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মন্দির গেটের সামনে বাইকের সাথে এক্সিডেন্ট করেন এবং মারাত্মকভাবে আহত হন এক কর্মকর্তা। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তিনি নতুন গাড়ি ক্রয় করেন এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাইক মেরামত করে নিজে ব্যবহার করেন। অভিযোগ রয়েছে, নতুন বাইক ক্রয় ও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাইক মেরামতের পুরো টাকা পরিবহন খাত থেকে নিয়েছেন, যা নিয়মবহির্ভূত।


শেয়ার করুন

0 coment rios: