জবির উপাচার্য হওয়ার আলোচনায় অধ্যাপক রইছ উদ্দিন

Post Image

জুবায়ের, জবি প্রতিনিধি : আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সারাদেশে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও প্রক্টর থেকে শুরু করে প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা অনেকেই পদত্যাগ করেছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য, প্রক্টররিয়াল বডি ও হল প্রভোস্টসহ অনেকেই পদত্যাগ করেছেন। অভিভাবকহীন অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম গতিশীল করতে দ্রুতই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করছে অন্তর্বর্তী সরকার। ২০০৫ সালে জগন্নাথ কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এখন পর্যন্ত ছয় জন উপাচার্য নিয়োগ হয়েছে। এসব উপাচার্যরা শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন না করা, একটিমাত্র ছাত্রী হল ছাড়া আবাসনের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ার কারণে বাহিরের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপাচার্য হিসেবে দেখতে চায় না শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বাইরের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উপাচার্য হয়ে আসলে তাঁরা একটি বলয়ের মধ্যে পড়ে যান বলে দাবি শিক্ষকদের। তাই নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ব্যতিত অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যদি কেউ জবির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়, তাহলে তাকে ক্যম্পাসের প্রধান ফটক থেকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলেও হুশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের থেকে উপাচার্য হওয়ার শিক্ষার্থী মহলসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)- এর যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন। তিনি শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিজেকে প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে সরব রেখেছেন। জানা যায়, বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে সাবেক উপাচার্য ড. মীজানুর রহমানের কাছে হেনস্তার শিকারও হয়েছেন একাধিকবার এই শিক্ষক। এমনকি ২০১৪ সালে তাকে অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও কেড়ে নেন মীজানুর রহমান। এর আগে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান, কলা অনুষদের ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। অধ্যাপনার পাশাপাশি ড. রইস একজন মানবাধিকার কর্মী হিসেবে পরিচিত। তিনি বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সিইও হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মানবাধিকার বিষয়ক অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ একাধিক স্বর্ণপদক লাভ করেন অধ্যাপক রইছ উদ্দিন।আমেরিকা,লন্ডন ,প্যারিস ,জেনেভা,কুয়ালালামপুর সহ অসংখ্য দেশের আন্তর্জাতিক সেমিনারে তিনি অংশ নেন। ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত অবস্হায় প্রভোস্ট, প্রক্টর সহ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে তিনি দক্ষতার পরিচয় দেন। তিনি একজন গবেষকও বটে।


শেয়ার করুন

0 coment rios: