গভীর রাতে ইবি সংলগ্ন ছাত্র মেসে ছাত্রী

গভীর রাতে ইবি সংলগ্ন ছাত্র মেসে ছাত্রী

Post Image

ইবি প্রতিনিধি: গভীর রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ছাত্রদের মেসে এক ছাত্রীর অবস্থান করার ঘটনা ঘটেছে।

এ নিয়ে রাতে ব্যাপক হট্টগোল হয়। মেসটির অন্য ছাত্ররা ওই ছাত্রী ও তাকে মেসে নিয়ে আসা ছাত্রকে আটকে রাখেন। গতকাল বুধবার রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হল সংলগ্ন তিনবোন ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স ব্যাংকিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ফুয়াদ। পরে ঐ দুই শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের মধ্যস্থতায় তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়।

মেসের ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই কক্ষটিতে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক আনোয়ার পারভেজ অবস্থান করেন। তবে ঘটনার সময় তিনি মেসে ছিলেন না। একই কক্ষে মার্কেটিং বিভাগের ২০১৯-২০ বর্ষের আলামিন নামের এক ছাত্রদল কর্মী থাকেন। আলামিনের বিভাগের জুনিয়র ফুয়াদ গভীর রাতে তার বান্ধবীকে নিয়ে ঐ রুমে আসে। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রীকে রুমে রেখে সে বাইরে খাবার আনতে গেলে মেসের অন্য শিক্ষার্থীরা টের পেয়ে এসে মেয়েকে দেখতে পায়। পরে তারা তাদের আটক করে রাখে। 

পরে তিনবোন ছাত্রাবাসের মেস মালিক প্রবাসে থাকায় ওই মেস মালিকের ভাই মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এরপর মেসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা দুজনকে প্রশাসনের হাতে তুলে দিতে চাইলে, মিজানুর রহমান ছেলেটিকে কৌশলে পার করে দেন বলে অভিযোগ ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের। আর মেয়েটিকে মিজান তার জিম্মায় রাখেন। এক পর্যায়ে ছেলেটিকে বের করে দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা মিজানের উপর ক্ষিপ্ত হন। এসময় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক এস এম সুইট ও ইবি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকা আশরাফ উদ্দীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে প্রশাসনের মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেন। বর্তমানে অভিযুক্ত দুজনই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের হেফাজতে রয়েছে।

অভিযুক্ত ওই ছাত্রী বলেন, আমি পার্শ্ববর্তী নুর জাহান ছাত্রী মেসে থাকি। গতরাতে বান্ধবীর মেসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে থাকার জন্য মেস থেকে ছুটি নিয়ে সন্ধ্যায় বের হই। পরবর্তীতে ফুয়াদ তাকে এখানে নিয়ে আসে এবং এখানে থাকতে বলে। ফুয়াদ তাকে রেখে বাইরে গেলে সে ওয়াশরুমে যায় এবং এর মধ্যেই বাইরে হট্টগোল শোনা যায়। পরবর্তীতে ফুয়াদ আসলে তাদেরকে বের করে নিয়ে আসা হয়। ফুয়াদ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের উভয়ের মাঝে ভালোবাসার সম্পর্ক রয়েছে।

অভিযুক্ত ফুয়াদ বলেন, ঐ মেয়েটি ছাত্রবাসে তার জরুরী প্রয়োজন সারতে আসে। তখন আমি মেসের বাহিরে ছিলাম। তবে মেসের শিক্ষার্থীরা ঐ মেয়েটিকে আমার সাথে থাকার অভিযোগে ধরে। তিনি আরো বলেন, আমি ওই রুমের ভিতরে ঢুকেছিলাম। চাবিটা রুমের পাশেই রাখা ছিল। আর এই রুমে মার্কেটিং বিভাগের আল-আমিন ভাই  ও ছাত্রদলের আনোয়ার পারভেজ ভাই থাকেন। আমি আগে থেকেই এখানে যাতায়াত করতাম।

মেসের শিক্ষার্থীদের দাবি, ছেলেটি তার বড় ভাই আল-আমিনের কাছ থেকে চাবিটি নিয়ে রুমের মধ্যে প্রবেশ করে। আর যে ছেলেটি এসেছিল সে আল-আমিনের জুনিয়র। তারা কোন অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছে। আমাদের মেসের সম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে। প্রশাসনের কাছে এর বিচার চাই।

মেস মালিকের ভাই মিজানুর বলেন, আসলে অপত্যাশিত একটা ঘটনা ঘটেছে। যে ছেলেটি এ ঘটনা ঘটিয়েছে সে আসলে এই মেসের কেউ না। আমি যতটুকু জানি এখানে আল-আমিন ও পারভেজ নামে দুটি ছেলে থাকে। এই ছেলেটি এখানে কি করে এলো আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে ইবি ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক আনোয়ার পারভেজ বলেন, যেই রুম থেকে ছাত্রী ধরা পড়েছে ঐ রুমটা আমার না। তবে আমি ঐ রুমে বিভিন্ন সময়ে যাই, আড্ডা দেই, থাকি।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক এস এম সুইট বলেন, আমরা ঘটনা জানতে পেরে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে সাময়িক সমাধান করি। প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, আমরা ঘটনা শুনেছি। আমরা ক্যাম্পাসে এসে ছাত্র উপদেষ্টাসহ অন্যান্যদের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিবো।

পটুয়াখালীর সেলফি রোডে ছবি তোলা ও ফুটপাতে বসা নিষিদ্ধ করলো কর্তৃপক্ষ

পটুয়াখালীর সেলফি রোডে ছবি তোলা ও ফুটপাতে বসা নিষিদ্ধ করলো কর্তৃপক্ষ

Post Image

মো: নাজমুল,পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

পটুয়াখালী সেলফি রোডে ছবি তোলা ও ফুটপাতে বসা নিষিদ্ধ করেছেন কর্তৃপক্ষ।



পটুয়াখালীর অন্যতম একটি সুন্দর স্থান যার নাম সেলফি রোড। যে স্থানে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হওয়া মাত্রই ভিড় করে অনেক দর্শনার্থী। কিন্তুু লক্ষ্য করা যায় সেই সেলফি রোডে ছবি তোলা ও ফুটপাতে বসা নিষিদ্ধ করেছেন কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে একটা সাইনবোর্ড দেখা যায় সেলফি রোডে। কেন কি কারণে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ তা সঠিক জানা যায়নি। কিন্তু এমন সাইনবোর্ড দেখে নানান মন্তব্য করছেন দর্শনার্থীরা

খুলনায় ভুয়া সমন্বয়কসহ গ্রেপ্তার ৫ জনকে কারাগারে প্রেরণ

খুলনায় ভুয়া সমন্বয়কসহ গ্রেপ্তার ৫ জনকে কারাগারে প্রেরণ

Post Image

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় গ্রেপ্তার ভুয়া সমন্বয়কসহ ৫ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত মঙ্গলবার রাতে ৯৯৯ ফোন পেয়ে পুলিশ ওই ৫ জনকে গ্রেপ্তার এবং অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ। পরে ভুক্তভোগী বাদি হয়ে ওই ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। বুধবার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সরদার মোন্তাজাবুর রহমান ওরফে জাবের, তাহমিদ রহমান, নাহিদ হাসান, এস এম শরিফ হোসেন ও ইমন হাওলাদার। সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম জানান, অপহৃত শেখ অহিদুজ্জামান ও মোন্তাজাবুর রহমান ওরফে জাবের পূর্ব পরিচিত। ডাক্তার দেখাতে গত ১৫ অক্টোবর অহিদুজ্জামান বাগেরহাট থেকে খুলনায় আসেন। ডাক্তার দেখানোর পর জাবের চা খাওয়ার কথা বলে অহিদুজ্জামানকে নগরীর শিববাড়ি মোড়ে নিয়ে আসে। সেখানে পৌঁছানোর পর অন্য ৪ ব্যক্তি তাকে তেতুঁল তলা মোড়ে রোজগার্ডেন হোটেলের তৃতীয় তলায় নিয়ে আটক রেখে চাঁদা দাবি করে এবং বেদম মারপিট করে। তার সঙ্গে থাকা দু’জন ৯৯৯ এ ফোন করলে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর ইমন ও নাহিদ নিজেদের সমন্বয়ক দাবি করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়। তাদের ছাড়াতে জহুরুল তানভীর নামে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক সমন্বয়ক থানায় যান। কিন্তু অন্য সমন্বয়ক এবং ছাত্ররা অপহরণকারীদের ছেড়ে দেওয়ার প্রতিবাদ জানালে রাতেই এ ঘটনায় মামলা হয়। শিক্ষার্থীরা জানান, গ্রেপ্তার ইমন বিভিন্ন সময় এক সমন্বয়কের সঙ্গে ঘোরাফেরা করতেন। আর নাহিদ একটি ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। তারা বিভিন্ন জায়গায় সমন্বয়কের পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করতে। তাদের ছাড়াতে সমন্বয়কের থানায় যাওয়ার ঘটনায় সবাই বিব্রত। তবে সমন্বয়ক জহুরুল তানভীর বলেন, আমি থানায় কাউকে ছাড়াতে যাইনি। বরং ওসিকে বলেছি, অপরাধী সমন্বয়ক হোক আর যেই পরিচয়েরই হোক তাকে আইনের আওতায় শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোনাডাঙ্গা থানার এসআই আল আমিন জানান, বুধবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সোহরাওয়ার্দী কলেজের গলার কাঁটা উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা

সোহরাওয়ার্দী কলেজের গলার কাঁটা উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা

Post Image

সোহরাওয়ার্দী কলেজ প্রতিনিধি:

রাজধানীর পুরান ঢাকায় অবস্থিত অন্যতম একটি সরকারি কলেজ শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ।

পুরান ঢাকার আশেপাশে যে সকল শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক পাশ করে তাদের বেশিরভাগেরই পছন্দের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করে এই কলেজটি। কিন্তু দিনের পর দিন উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলের বিপর্যয়ের কারণে প্রতিষ্ঠানটির গলার কাটায় পরিণত হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিত না থাকা, শিক্ষার্থীদের সচেতনতার অভাব, অবকাঠামোগত সমস্যা ও শিক্ষক সংকটকে দায়ী করছেন কলেজ প্রশাসন। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে এ বছর পাশের হার ৮০.০৯ শতাংশ এবং জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪২ জন। জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ব্যবসায় শিক্ষা থেকে ৫ জন এবং বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ৩৩ জন ও মানবিক বিভাগ থেকে ৪ জন পেয়েছেন। এ বছর ২১২৫ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছেন ১৭০২ জন। অর্থাৎ অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪২৩ জন।

গত বছর সোহরাওয়ার্দী কলেজের পাশের হার ছিল ৮০.৪৪ শতাংশ এবং জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৮ জন। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪০৬ জন ২০২২ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সোহরাওয়ার্দী কলেজের পাশের হার নেমে আসে ৮৭.৬৮ শতাংশ এ এবং জিপিএ ৫ পায় ১১৯ জন। অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২৪ জন।

২০২১ সালের (সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে অনুষ্ঠিত) উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশের হার ছিল এসে ৯৬.৭৩ শতাংশ এবং জিপিএ ৫ পায় ৯৫ জন। এবছরও অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০১ জন।

এ বিষয়ে জানতে কলেজটির উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ফরিদা ইয়াসমিনের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা পারিবারিক ও জীবন জীবিকা নির্বাহের কারণে বেশিরভাগই ক্লাসে উপস্থিত থাকতে পারে না। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের একাধিকবার দায়িত্ব দিয়েও শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরাতে পারেননি। ক্লাসে শিক্ষক পরিবর্তন, শিক্ষার্থীদের আনুপাতিক হারে শিক্ষকদের দায়িত্ব ভাগ করে মনিটরিংসহ একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও আশানুরূপ সাফল্য আসেনি। উচ্চ মাধ্যমিকের আশানুরূপ ফলাফল পেতে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার বিকল্প নেই।

শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরাতে কলেজকে আকর্ষণীয় করতে বিভিন্ন ইনডোর গেমসের ব্যবস্থা করা, নির্ধারণ রুটিন ব্যবহার করে ইন্টারমিডিয়েটের ক্লাসগুলো চলমান অবস্থায় স্নাতকের ক্লাসগুলো বন্ধ রাখাসহ একাধিক পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কাকলী মুখোপাধ্যায় জানান, আমাদের কলেজে যারা ভর্তি হয় তাদের বেশিরভাগই মাধ্যমিকের ফলাফল থাকে মাঝামাঝি ধরনের। সেক্ষেত্রে একটি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন এখানকার শিক্ষকেরা। তিনি ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে অবকাঠামোগত সমস্যা, ক্লাসরুম সংকট, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক সংকটকেও দায়ী করেছেন।

তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে আজ থেকেই আমার দায়িত্ব শুরু হল। আমি এই প্রতিষ্ঠানের ফলাফলের আশানুরূপ মানোন্নয়নের ব্যাপারে কাজ শুরু করবো। এবং এ ব্যাপারে এ প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষকের আন্তরিক সহায়তা একান্ত কাম্য।

বিদেশি শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে বাকৃবি অধ্যাপক সাময়িক বরখাস্ত

বিদেশি শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে বাকৃবি অধ্যাপক সাময়িক বরখাস্ত

Post Image

বাকৃবি প্রতিনিধি: মালয়েশিয়ান শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় অভিযুক্ত কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হারুণ-অর-রশিদকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) প্রশাসন।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, 'সোমবার বিকেলে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশের প্রেক্ষিতে অধ্যাপক ড. মো. হারুণ-অর-রশিদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অধ্যাপক ড. মো. হারুণ-অর-রশিদকে শোকজ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য ১০ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।'

ওই বিচারের পাশাপাশি বিগত বছরের যৌন হয়রানির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার জন্য সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এদিকে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের লিগাল এইড উপ-পরিষদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ  বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এছাড়া বাংলাদেশে মালয়েশিয়ান দূতাবাস তদন্তের ফলাফল জানতে চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চিঠি পাঠিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ সেপ্টেম্বর ড. হারুণ এর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদে অধ্যয়নরত মালয়েশিয়ান এক নারী শিক্ষার্থী। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির কাজ চলাকালীন বিভিন্ন সময় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

তারুণ্যের ভাবনায় আগামী বাংলাদেশ

তারুণ্যের ভাবনায় আগামী বাংলাদেশ

Post Image

মো:রাজিব: বাংলাদেশের আগামী দিনের পথচলায় তরুণদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তরুণরা জাতির প্রাণশক্তি ও সম্ভাবনার প্রতীক। তাদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও অদম্য উদ্যমই বাংলাদেশের উন্নতির মূল চালিকাশক্তি হতে পারে। বর্তমান যুগে তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার, জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতি, ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার চাপে আমাদের তরুণদের এগিয়ে যেতে হবে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। তরুণ প্রজন্মের ভাবনায় আগামী বাংলাদেশ হতে পারে একটি সমৃদ্ধ, শিক্ষিত, এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত দেশ। একটি এমন সমাজ যেখানে সুশাসন, ন্যায়বিচার, এবং মানবাধিকার রক্ষিত হবে। তরুণরা চাইবে এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে বেকারত্বের হার কম, শিক্ষার মান উন্নত, এবং স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য। তারা বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে আগ্রহী এবং পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতন।

তরুণদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা তৈরি হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে। এছাড়া তারা সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক খাতে নিজেদের যুক্ত করতে পারলে দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সঠিক দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে তরুণরা ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে একটি উন্নত, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তর করতে সক্ষম।

মো:রাজিব গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

ছাত্র রাজনীতিতে সরব হওয়ার চেষ্টা নোবিপ্রবি ছাত্রদলের, সজাগ শিক্ষার্থীরা

ছাত্র রাজনীতিতে সরব হওয়ার চেষ্টা নোবিপ্রবি ছাত্রদলের, সজাগ শিক্ষার্থীরা

Post Image

মোঃ শফিউল্লাহ, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি:

সম্প্রতি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ছাত্রদলের ব্যানারে কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের দলীয় কার্যক্রম প্রচার করায় শিক্ষার্থীদের সমালোচনার মুখে পড়েছে নোবিপ্রবি ছাত্রদল।

এর‌ আগেই প্রশাসন থেকে প্রকাশে ও অপ্রকাশ্যে সকল‌ ধরনের ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো। গত ১৩ অক্টোবর "নোবিপ্রবি ছাত্রদল" এবং "নোবিপ্রবি ছাত্রদল অফিসিয়াল" এই দুইটি ফেসবুক পেজে ছাত্রদলের সাম্প্রতিক কার্যক্রম নিয়ে করা পোস্টগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গ্রুপগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়।

ছাত্রদলের পেজ থেকে করা পোস্টে দেখা যায়, গত ৭ অক্টোবর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হাতে নির্যাতনে নিহত শহীদ আবরার ফাহাদের ৫ম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে নোয়াখালী শহর মাইজদী এবং ক্যাম্পাসের বাহিরে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের ব্যানারে মিছিল ও স্মরণ সভা করে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে আড্ডা এবং শোডাউনের পোস্ট দিতেও দেখা যায়। ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ সত্ত্বেও এমন সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করে শিক্ষার্থীরা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নোবিপ্রবির সমন্বয়ক জাহিদুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গ্রুপে বলেন, ছাত্রদল রীতিমতো ক্যাম্পাসে শোডাউন দিচ্ছে। মাইজদী শহীদ মিনারের সামনে আর ভার্সিটির গেটের বাহিরে ব্যানার নিয়ে কর্মসূচি পালন করতেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে আর শহীদ মিনারের সামনে ছবি তুলতেছে। একজন তো স্ট্যাটাস'ই দিলো " ক্যাম্পাসের নিয়মিত আড্ডায়"। একটা ছবিতে দেখলাম রীতিমতো হলের গেস্ট রুমে বসে আছে। তাইলে আপনারা রাজনীতির আর কি বাকি রাখলেন?

যারা রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়ে এই শিক্ষার্থী বলেন, ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়া সত্বেও নোবিপ্রবির নামকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক এক্টিভিটি চালানো এইটা বিশ্ববিদ্যালয় চলমান আইনকে লঙ্ঘন করা। নোটিশে উল্লেখ ছিলো, যারা এই আইনকে লঙ্ঘন করবে তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নিবে প্রশাসন। এবার দেখার পালা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন কথা এবং কাজে কতটা বদ্ধপরিকর।

হুমাইরা তাসনীম নেহা নামের আরেক শিক্ষার্থী লিখেন, রাজনীতি সবার ব্যাক্তিগত অধিকার, কিন্তু রাজনীতি ক্যাম্পাসে না। রাজনীতি করলে ক্যাম্পাসের ১০১ একরের বাহিরে করবে। কোনো পোস্টার ব্যানারে নোবিপ্রবির নামে রাজনীতি করা যাবে না। ১০১ একরের বাহিরের যা ইচ্ছা সে ব্যানারের রাজনীতি করুক কোনো মাথা ব্যাথা নাই আমাদের। দরকার হলে লিখুক "বাংলাদেশ ছাত্রদল, সেলিম মামার টং দোকান শাখা"। কিন্তু নোবিপ্রবির ব্যানারো কোনো রাজনীতি চলবে না।

মুকতার এলাহি নামের আইসিই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী হুশিয়ারি দিয়ে লিখেন, জুলাই বিপ্লবের ৯দফা দাবির ১দফা ছিলো ক্যাম্পাসে সকল ধরনের দলীয় লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। বিপ্লব পরবর্তী সময়ে ভার্সিটির রিজেন্ট বোর্ড কর্তৃক ক্যাম্পাসে সকল ধরনের দলীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করাও হয়েছে। এখন ইনিয়েবিনিয়ে কেউ যদি ক্যাম্পাসে দলীয় পলিটিক্স ঢুকিয়ে বিপ্লবের স্পিরিট নষ্ট করার সাহস দেখায় বা প্রশাসনিক আইন ভঙ্গ করতে চায় তাকে কঠোরভাবে প্রতিহত করতে হবে।

এমন সব সমালোচনার মুখে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক নূর হোসেন বাবু বলেন, রাজনীতি করা প্রত্যেক মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। সেই জায়গা থেকে আমরা রাজনীতি করে যাবো। সাধারণ ছাত্ররা যেন নির্যাতিত না হয় এবং তাদের অধিকার নিশ্চিতের লক্ষে ছাত্রদল কাজ করে যাবে। আমরা চাই নোবিপ্রবি বিগত সময়ে আওয়ামী শাসনামলে তৈরি হওয়া রিজেন্ট বোর্ড কর্তৃক রাজনীতি নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন বাতিল করবে।

নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাহারাজ উদ্দিন জিহান বলেন, আওয়ামীলীগের দোসরদের দ্বারা গঠিত রিজেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে হওয়া প্রজ্ঞাপন দিয়ে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারা ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছে যে এটা কার সাথে আলোচনা করে করেছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি দিবো ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু ধারায় ছাত্র রাজনীতির বৈধতা দিতে হবে। ছাত্রদলের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে এই নেতা বলেন, আমরা কাজ করে যাবো তবে এমন কোনো কাজ করবো না যেটা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ক্ষতিকর। আমরা আদর্শিক রাজনীতি করবো কাউকে শক্তি প্রয়োগ করা হবে না। আমাদের আদর্শ পছন্দ হলে আসবে আর না হলে নাই।

বিভিন্ন সময়ে ছাত্রদলের ব্যানারে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া জাহিদুল ইসলাম বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রদলের ভূমিকা ছিলো অনেক। আমাদের অনেক নেতা কর্মী শহীদ হয়েছে। সেই যায়গা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতির চর্চা করার অধিকার আমাদের রয়েছে। ছাত্রদল যদি কোনো খারাপ কাজ করে তাহলে শিক্ষার্থীরা তা চোখে আঙুল দিয়ে ধরিয়ে দিক। শিক্ষার্থীদের সমালোচনাকে আমরা সাধুবাদ জানাই৷ বিশ্ববিদ্যালয় একটি মুক্ত বুদ্ধি চর্চার জায়গা, এখানে রাজনীতি চর্চা করার অধিকার সবার আছে।

রাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর এ এফ এম আরিফুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতিসহ সকল ধরণের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেউ যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম এবং ব্যানার ব্যবহার করে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিষয়ে নোবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে যারা আইন অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনীতি চালুর করার বিষয়েও আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো রাজনৈতিক বডির সাথে বসবো না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যদি দাবি নিয়ে আসে তখন সেটা আমরা বিবেচনা করবো।

উপাচার্যের খাস কামরায় ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে শিক্ষকের স্টাটাসের স্ক্রিনশট

উপাচার্যের খাস কামরায় ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে শিক্ষকের স্টাটাসের স্ক্রিনশট

Post Image

মিরাজ হোসেন বশেফমুবিপ্রবি প্রতিনিধি:

উপাচার্যের খাস কামরায় ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে শিক্ষকের স্টাটাসের স্ক্রিনশট 'আমার ছাত্র মরলো কেনো? জবাব চাই, বিচার চাই...' — নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে ছাত্রহত্যার ঘটনায় বিচার চেয়ে এই পোস্টটি করেছিলেন জামালপুরের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম।



আর এতেই যেন গা চমচমিয়ে উঠলো পদত্যাগী স্বৈরাচার সরকারের সময় এ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ ছাত্রলীগ শাখার নেতাদের। তারা পোস্টদাতা সাইফুল ইসলামসহ যারা কমেন্ট করেছেন তাদের সেইসব পোস্টের স্ক্রিনশট প্রিন্ট করে জমা দিয়েছেন পদত্যাগী উপাচার্য মো. কামরুল আলম খানের কাছে। শুধু সাইফুল ইসলাম-ই নন, আরও সাবেক ট্রেজারার, কয়েকজন শিক্ষকের স্ট্যাটাস ও কমেন্টের স্ক্রিনশট জমা দিয়েছেন তারা।

ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, গত জুলাই মাসে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারকে কেন্দ্রে করে শুরু হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এতে শত শত ছাত্র-জনতা নিহত হতে থাকলে তা রূপ নেয় সরকার পতনের গণঅভ্যুত্থানে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতো এ বিশ্ববিদ্যালয়েরও কিছু শিক্ষক আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে এর পক্ষে ফেসবুকে পোস্ট করেন। এসব ঘটনায় নজরদারি বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্দেশ্যে সাবেক উপাচার্যের কাছে এসব জমা দেওয়া হয়। যা উপাচার্য চলে যাওয়ার পর তার কক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে গিয়ে তা পাওয়া যায়। তবে কে বা কারা এসব স্ক্রিনশট জমা দিয়েছেন তা জানা যায়নি।

খামেভর্তি ১০ পাতার প্রিন্ট করা পোস্ট ও কমেন্টের বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বেশির ভাগ পোস্টই সাইফুল ইসলামের। হাত উঁচু করে লাল কার্ড দেখানো একটি ছবি সংযুক্ত করে আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, 'ছাত্র-জনতা মুক্তি পাক, খুনীরা সব নিপাত যাক।' এছাড়াও অন্যান্য পোস্টগুলোতেও আন্দোলনের পক্ষে তার স্পষ্ট অবস্থান ফুটে ওঠে।

ফিশারিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সৈয়দ আরিফুল হকের স্ট্যাটাস শেয়ারের কপিও আছে। পোস্টগুলোর মধ্যে একটি পোস্টে কোরআনের আয়াত এবং আরেকটিতে শহিদ আবু সাঈদের মৃত্যুর শোক প্রকাশ করে লেখেন, 'আমরা শিক্ষকরা, যারা ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে অভিভাবক হিসেবে পরিচিত সে শিক্ষকরাই যখন নিজ ক্যম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ, সে আবার কিসের অভিভাবক। এ লজ্জা আমাদের, মেরুদণ্ডহীন শিক্ষকদের। আমি শিক্ষক হিসেবে বাকরুদ্ধ, লজ্জিত,ব্যথিত।'

এছাড়া কমেন্টে সমাজকর্মবিভাগের শিক্ষক ড. আল মামুন সরকার ও ট্রেজারার মোহাম্মদ আবদুল মাননানের নাম হাইলাইটার পেন দিয়ে মার্ক করা রয়েছে। এতে কিছু শিক্ষার্থীর কমেন্টও দেখা যায়। তারা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী শাকিল আহমেদ, বর্তমান শিক্ষার্থী তাবাসসুম রাফি ও মামুনুর রশিদসহ আরও বেশ কয়েকজন।

ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ৪ আগস্ট ছিলো অভ্যুত্থানের আগে সর্বশেষ কর্মদিবস। ওইদিনই এসব স্ক্রিনশট উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। স্ক্রিনশট অনুযায়ী, সাইফুল ইসলামের সর্বশেষ স্ট্যাটাস ৩ আগস্ট দেওয়া। যা পোস্ট করার ১৯ ঘণ্টা স্ক্রিনশট নেওয়া হয়েছে। অন্যান্য স্ক্রিনশটগুলোতেও দেখা যায়, বেশিরভাগ পোস্ট করা হয়েছে ৩ আগস্ট বা তারও আগে।

ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, ৪ আগস্ট ছিলো রোববার। ওইদিন সকালে উপাচার্য ঢাকা থেকে ক্যাম্পাসে আসেন। এরপর থেকে তার কক্ষে সদ্য পদত্যাগী ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর এসএম ইউসুফ আলী, মির্জা আজম হলের ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট পার্থ সারথি দাশ, ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কাওসার আহমেদ স্বাধীন, যুগ্ম আহ্বায়ক তাইফুল ইসলাম পলাশসহ কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা উপাচার্যের কাছে বসেছিলেন। আর কক্ষটি ৫ আগস্টের পর ২৯ সেপ্টেম্বর খোলা হয় । এরপরই মূলত এসব স্ক্রিনশট পাওয়া গেছে। আন্দোলন চলাকালে ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের নানাভাবে হয়রানি করেছে। অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মোবাইল চেক করেছে। আর এসব কাজে সহায়তা দিয়ে গেছেন পদত্যাগী উপাচার্য, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরসহ প্রশাসনের অনেক শিক্ষক ও কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, উর্ধ্বতনরা নির্দেশ দিয়েছেন, সরকার যেকোনো সময় উপাচার্য নিয়োগ দিতে পারে। তাই কক্ষটি নতুন উপাচার্যের ব্যবহারের উপযোগী করতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রাখতে। এছাড়া সদ্য পদত্যাগ করা উপাচার্যের ব্যক্তিগত কিছু জিনিসপত্র ছিল। তাও ফেরত পাটাতে বলা হয়। আর এসব গোছাতে গিয়ে উপাচার্যের খাস কামরায় কয়েকটি খাম পাওয়া যায়। এর বেশিরভাগই নষ্ট কাগজপত্র। সেখানে পাওয়া একটি খাম খুললে একজন শিক্ষকদের ফেসবুক পোস্ট ও কমেন্টের স্ক্রিনশট প্রিন্ট করে মার্কার দিয়ে মার্ক করা দেখতে পাওয়া যায়। তখন বিষয়টি অফিসের ঊর্ধ্বতনদের জানানো হয়।
তবে এ বিষয় যোগাযোগ করা হলে সদ্য পদত্যাগ করা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: কামরুল আলম খানের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এদিকে সরকার গত ২৫ সেপ্টেম্বর ফিশারিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক, প্রশাসনিক ও একাডেমিক দায়িত্বে নিয়োজিত করেছে সরকার। এ বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গত ৮ অক্টোবর উপাচার্যের কক্ষ পরিষ্কার করার সময় একটি খাম পাওয়া যায়। খামটিতে জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র আন্দোলন নিয়ে শিক্ষকদের করা কয়েকটি পোস্টের স্ক্রিনশট পাওয়া যায়। সেগুলোতে শিক্ষকদের নাম হাইলাইট করা।

'ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বর্হিঃপ্রকাশ। দাবিটি ছিলো যৌক্তিক। শিক্ষক হিসেবে ছাত্রদের পক্ষে অবস্থান নেওয়াও স্বাভাবিক। তাছাড়া এটি মতপ্রকাশের অধিকারও বটে। কিন্তু গোপনে এ ধরনের নজরদারি কিংবা অভিযোগ খুবই অনিভিপ্রেত।'

তিনি করেন, কোনো ধরনের ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যেই এই হীন কাজটি কেউ না কেউ করেছে। এই আন্দোলন সফল না হলে যেমন অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হতো না এবং তেমনই যেসব শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী অনলাইন বা অফলাইনে আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে তাদেরও হয়রানির মধ্যে পড়তে হতো। আমরা মনে করি- এর প্রক্রিয়া হিসেবেই এসব করা হয়েছ।

নিয়মিত উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হবে বলেও জানান মো. সাইফুল ইসলাম।

প্রথমবারের মতো পবিপ্রবির এ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি ডিসিপ্লিনের বিদেশে ইন্টার্নশিপ

প্রথমবারের মতো পবিপ্রবির এ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি ডিসিপ্লিনের বিদেশে ইন্টার্নশিপ

Post Image

পবিপ্রবি সংবাদদাতা:

পবিপ্রবির এ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি ডিসিপ্লিন থেকে প্রথমবারের মতো ইন্টার্নশিপের অংশ হিসেবে ২০১৮-১৯ সেশনের একাংশ বিদেশে রওনা হয়েছে।

তারা থাইল্যান্ডের সুরানারী ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজিতে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পেয়েছেন। এ্যানিমেল হাজবেন্ড্রীর ৮ম ব্যাচ দিয়ে বিদেশে প্রথমবারের মতো ইন্টার্নশিপের সুযোগ পেলেন তারা। উল্লেখ্য, এএনএসভিএম অনুষদের আরেক ডিসিপ্লিন ডিভিএমের ২০১৭-১৮ সেশন এর আগে বিদেশে ইন্টার্নির সুযোগ পায়। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন এর মাধ্যমে এএনএসভিএম অনুষদের সব ডিসিপ্লিন এখন থেকে বিদেশে ইন্টার্নি করতে পারবে।

বহিরাগত কর্তৃক ইবি ছাত্রী হেনস্তার শিকার

বহিরাগত কর্তৃক ইবি ছাত্রী হেনস্তার শিকার

Post Image

ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক ছাত্রী বহিরাগত কর্তৃক হেনস্তার শিকার হয়েছেন।

সোমবার (১৪ অক্টোবর) রাত ৮ টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পথে ভাড়া বাসে এ ঘটনা ঘটে। পরে ইবি থানায় মুচলেকা দিয়ে তাকে ছাড়া হয়। অভিযুক্ত ঝিনাইদহ সদর উপজেলার আরাপপুর গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে জুয়েল আহমেদ রাজু (৪২)। পেশায় তিনি ইজিবাইক চালক।
জানা যায়, ভুক্তভোগী ছাত্রী কুষ্টিয়া থেকে ভাড়ন বাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে আসছিলেন। বাসের মধ্যে অভিযুক্ত রাজু তাকে বিভিন্ন ভাবে হেনস্তা করেন। এসময় ঐ ছাত্রীর কাছে টিকিট দেখতে চান রাজু। ভুক্তভোগী টিকিট দেখাতে অস্বীকৃতি জানালে রাজু তাকে হিজাব খোলার জোর করেন। তার হাত ধরে টানাটানিসহ নানাভাবে হেনস্তা করেন। পরে বাস থেকে নেমে তার বন্ধুদের জানালে বন্ধুরা মিলে অভিযুক্তকে ইবি থানায় হস্তান্তর করেন।
পরে অভিযুক্ত রাজুর আত্মীয় স্বজনের উপস্থিতিতে মুচলেকা নিয়ে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

স্বল্পমূল্যে গবাদিপশুর ব্রুসেলোসিসের টিকা তৈরি করলেন বাকৃবির গবেষকদল

স্বল্পমূল্যে গবাদিপশুর ব্রুসেলোসিসের টিকা তৈরি করলেন বাকৃবির গবেষকদল

Post Image

বাকৃবি প্রতিনিধি: গবাদিপশুর গুরুত্বপূর্ন রোগ ব্রুসেলোসিসের ভ্যাকসিন তৈরি করলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের মাইক্রোবায়োলজি এন্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম, একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মোছা. মিনারা খাতুন, গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. জামিনুর রহমানসহ বাকৃবির স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীরা।

বাংলাদেশ একাডেমি অফ সাইন্সেস - ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচার ( বিএএস - ইউএসডিএ) এর অর্থায়নে গবেষণাটি সম্পন্ন হয়েছে। ২০২০-২৩ সাল পর্যন্ত এই গবেষণাটি করা হয়।

ব্রুসেলোসিস রোগ নিয়ে অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ব্রুসেলোসিসে আক্রান্ত গরু, ছাগল, ভেড়া যদি গর্ভধারণ করে তখন তাদের গর্ভপাত হতে পারে। গর্ভাবস্থায় থাকাকালীন ৬ মাস পর সাধারণত গর্ভপাতটি হয়ে থাকে। ফলে খামারি একইসাথে বাছুরটি ও হারায় এবং গাভীর দুধের উৎপাদনও কমে যায়। অর্থাৎ খামারে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধিত হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও ব্রুসেলোসিস অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি রোগ, যা ব্রুসেলা ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে হয়ে থাকে। দেশের প্রায় ৫-৬ শতাংশ গবাদিপশু এ রোগে আক্রান্ত। এতে পশু মারা না গেলেও প্রচুর অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধিত হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জুনোটিক রোগের (প্রাণীর থেকে মানুষে ছড়ায়) ক্ষেত্রে বোভাইন যক্ষ্মার পরই ব্রুসেলোসিসের অবস্থান, যা দেশের নীতিনির্ধারক কর্তৃক স্বীকৃত। সাধারনত পশু চিকিৎসক এবং খামারিরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হন। অজ্ঞতাবশত মাস্ক, গ্লাভস ছাড়া ব্রুসেলোসিসে আক্রান্ত প্রাণীর বাছুর বের করতে গেলে অথবা পরিষ্কার করতে গেলে মানবদেহে রোগটি ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ ব্রুসেলায় আক্রান্ত হলে তার কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া সহ নানান সমস্যার দেখা দেয়।

গবেষণা নিয়ে অধ্যাপক জানান, ভ্যাকসিনের ফিল্ড ট্রায়ালের জন্য ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও টাঙ্গাইলের প্রায় ৪০০ গাভীর দেহে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করি এবং পরবর্তীতে ওই গাভীগুলোর এন্টিবডি টেস্ট এর মাধ্যমে নির্ণয় করতে পারি ব্রুসেলোসিসের বিরুদ্ধে উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন টি যথেষ্ট কার্যকর। প্রায় ১ বছর ভ্যাকসিনটির ফিল্ড ট্রায়াল চলে।

ভ্যাকসিন সম্পর্কে অধ্যাপক আরিফুল জানান, বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে 'ব্রুসেলা অ্যাবোরটাস’ (Brucella abortus) এর আধিক্য বেশি দেখা যায়। ব্রুসেলা অ্যাবোরটাস’র বায়োভার-৩ এর বিরুদ্ধে উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর। তবে অন্যান্য বায়োভারের বিরুদ্ধেও ইহা প্রতিরক্ষা দিবে অ্যান্টিজেনিক মিল থাকার কল্যাণে। আমাদের উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনটি মৃত ভ্যাকসিনের অন্তর্গত। প্রতি ছয়মাস অন্তর অন্তর ভ্যাকসিনটির বুস্টার ডোজ দিতে হবে।

ভ্যাকসিনটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং ধরন সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যাপক আরিফুল জানান, ভ্যাকসিন সাধারণত দুইধরণের হয় যেমন: জীবিত ভ্যাকসিন, মৃত ভ্যাকসিন। জীবিত ভ্যাকসিনে অনুজীবটি জীবিত ও দুর্বল থাকে কিন্তু মৃত ভ্যাকসিনে অণুজীবটি মৃত থাকে কিন্তু এন্টিবডি বিদ্যমান থাকে। জীবিত ভ্যাকসিনের অসংখ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে, যেমন: ভ্যাকসিন দেয়ার সময় ইনজেকশনের সুঁচ ঠিকমতো না ফুটলে ওই জীবিত ব্যাকটেরিয়া মানুষ ও অন্য পশুর সংস্পর্শে এসে রোগ সৃষ্টি করতে পারে, গর্ভপাত করতে পারে, জীবিত ভ্যাকসিন সংরক্ষণের জন্য কোল্ড চেইন দরকার পরে এজন্যই আমরা মৃত ভ্যাকসিন নিয়েছি। আমাদের তৈরি ভ্যাকসিনের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি।

পরিশেষে অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ভ্যাকসিনের ফর্মুলা তৈরি আছে তবে বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদন করা হয়নি। তবে পর্যাপ্ত ফান্ডিং এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে হয়তো এর বাণিজ্যিক উৎপাদন সম্ভব। এছাড়াও কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি চায় তাহলে আমরা ভ্যাকসিনটি তৈরি করে তাদের সরবরাহ করতে পারবো। ভ্যাকসিনটির জন্য গবাদিপশু প্রতি খরচ পড়বে মাত্র ৫০ থেকে ১০০ টাকা। বুস্টার ডোজের জন্যও একই খরচ পড়বে। উৎপাদন খরচ, সস্তা কাঁচামাল ও প্রযুক্তিগত বিষয়ে খরচ কম হওয়ায় এতো অল্প মূল্যে ভ্যাকসিনটি সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।

উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল হক ও তার গবেষকদল ২০১৬ সালে দেশে সর্বপ্রথম গবাদিপশুর দেহে ব্রুসেলার উপস্থিতি নির্ণয় করেছিলো।