শহীদি মার্চ: সকলস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ

Post Image

ঢাবি প্রতিনিধি: স্বৈরাচার পতনের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজনে ছাত্র-জনতার ‘শহীদি মার্চ’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে শহীদি মার্চ শুরু হয়।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ‘শহিদি মার্চটি’ রাজু ভাষ্কর্য থেজে নীলক্ষেত, নিউমার্কেট, কলাবাগান, সংসদ ভবন, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ ও রাজু ভাস্কর্য হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। এসময় অনেককে শহীদদের নাম ও ছবি সংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে আসতে দেখা যায়। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সাথে সাথে ফিলিস্তিনের পতাকাও এনেছেন কেউ কেউ। মার্চের পুরো সময়ে আগত ছাত্র - জনতাকে '' আমাদের শহীদেরা, আমাদের শক্তি" "আবু সাইদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ" "শহীদের স্মরণে, ভয় করিনা মরণে " প্রভৃতি স্লোগান দিতে দেখা যায়। উল্লেখ্য, এক সংবাদ সম্মেলনে বুধবার আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলম, হাসানাত আব্দুল্লাহ বাকের মজুমদার সহ আন্দোলনের অন্যান্য সমন্বয়করা আজকের শহীদি মার্চ কর্মসূচির আহ্বান করেন। পরিপ্রেক্ষিতে আজ দলে দলে হাজারো ছাত্র-জনতা কর্মসূচিতে অংশ নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আসেন। মার্চে পরিবারসহ আসা প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরহাদ আহমেদ(৬৮)বলেন, "মানুষের একতাবদ্ধ হওয়ার দৃশ্য টা খুবই ইতিবাচক। এইরকম উদ্যোগ বাহাত্তরের পর এই চব্বিশে এসে দেখা গেল। সবার আগে দরকার একতা। আমরা যে রাজনৈতিক দলেরই হই না কেন আমাদের একতাবদ্ধ থাকতে হবে।" এদিকে, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, শহীদরা যে স্পিরিট নিয়ে সংগ্রাম করে প্রাণ দিয়েছেন সে স্পিরিট রক্ষার্থে প্রয়োজন হলে জীবন দিব। যেকোনো ধরনের ফ্যাসিবাদ রুখতে ছাত্রজনতা যেকোনো সময় একত্রিত হতে প্রস্তুত আছে। লক্ষ মানুষের জনস্রোত প্রমাণ করে শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না। প্রাইভেট এক কোম্পানিতে কর্মরত বরকত উল্লাহ হেলাল বলেন, "সময় দিতে হবে সরকারকে। ১৬ বছরের অরাজকতা আর দুর্নীতি তো একমাসে শেষ করা সম্ভব না। আমাদের সাধারণ মানুষদের কিছুদিন হলেও সরকারকে সাহায্য করতে হবে।" উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে গত ১ জুলাই আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এই আন্দোলন ব্যর্থ করতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী দ্বারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে। শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্বতা পোষণ করে সেসময় দেশের আপামর জনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করলে ৫ আগস্ট স্বৈরাচারের পতন হয়।


শেয়ার করুন

0 coment rios: